কুমিল্লায় গ্যাসের তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে ৫ লাখ গ্রাহক

কুমিল্লাজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাসাবাড়ি থেকে হোটেল, রেঁস্তোরা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং শিল্প, কারখানায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নায় দিনভর চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ভোর থেকে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়, বাগিচাগাঁও, রাজগঞ্জ, পুলিশ লাইন, অশোকতোলা, ছোটরা, আশ্রাফপুর, চর্থা, মুন্সেফবাড়িসহ নগরীর প্রত্যেকটি আবাসিক এলাকার বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট তৈরি হয়। একই অবস্থার দেখা দেয় শহরতলীর আশাপাশে এবং উপজেলা শহরগুলোতেও।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে চট্টগ্রামের মহেশখালীতে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমিল্লায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখো দেয়। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বোঝাই কার্গো জাহাজগুলো সরবরাহ কেন্দ্র পর্যন্ত ভিড়তে না পারায় চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। তবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেই এক সংকট কেটে যাবে।

রান্নাবান্না করতে না পেরে বাসিন্দাদের বিভিন্ন হোটেল ও রেঁস্তোরায় চড়া দামে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা গেছে লাইনে দাঁড়িয়ে। সেখানেও ভোগান্তির চিত্র লক্ষ করা গেছে। একইসঙ্গে গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহনের চালক। গ্যাস সংকটে  তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর গ্যাস না পেয়ে চালকদের হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা গেছে।

এছাড়াও গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে কুমিল্লা ইপিজেড, বিসিক শিল্পনগরীসহ জেলার বিভিন্ন ছোট, বড় শিল্পকারখানায় পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। কুমিল্লায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে সর্বত্রই একই ভোগান্তি।

গ্যাস সংকটের কারণে অনেককে লাড়কির চুলায় রান্নার কাজ সারতে দেখা গেছে। আর যাদের লাড়কির চুলা নেই ওই সব বাসিন্দাদের লাইনে দাঁড়িয়ে হোটেল ও রেঁস্তোরা থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, হঠাৎ গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। চুলায় একদম আগুন জ্বলছে না। তাই বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে সেখানেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত দামে খাবার কিনতে হয়েছে। হোটেল মালিকরা সুযোগ বুঝে বাড়তি দামে খাবার বিক্রি করেন।

অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চাঁদপুর ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের আশেপাশসহ জেলার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা দেয় গ্যাসচালিত বিভিন্ন পরিবহনের।

চালকরা জানান, গ্যাস ছাড়া তেলে গাড়ি চালানো সম্ভব না। কারণ তেলে দাম অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। 

কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লিমিটেডের বিক্রয় প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পখাতে সর্বত্রই একই ভোগান্তি। বিশেষ করে কুমিল্লা নগরী ও আশপাশের এলাকাগুলোতে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে চট্টগ্রামের মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমিল্লায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। আশা করছি শুক্রবার সকালের দিক থেকে গ্যাস সরবরাহ আবারও স্বাভাবিক হবে।”