খুলনা বিভাগে থামছেই না বাল্যবিবাহ

প্রশাসনের তৎপরতার পরও খুলনা বিভাগে ১০ জেলায় বাল্যবিবাহ থামছেই না। এসব জেলায় গত ৬ মাসে ২০২ টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। বাল্যবিবাহের ঝুঁকির শীর্ষে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, খুলনা ও যশোর।

বাল্যবিবাহ রোধে খুলনা বিভাগীয় কমিটির চতুর্থ কোয়ার্টারের সভায় এ সব তথ্য জানানো হয়।

বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) দেবপ্রসাদ পাল-এর সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বলা হয়, গত মার্চ মাসে ২৬টি, এপ্রিল মাসে ৩১টি ও মে মাসে ৪৬টি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। মে মাসের ৪৬টি গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে ৩৬টি, এ বছরের জানুয়ারি মাসে ৩৮টি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫টি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছিল।

গত ৬ মাসে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে সাতক্ষীরা জেলায় ১১৬টি। এরপর রয়েছে বাগেরহাটে ৯৩টি, ঝিনাইদহে ৮১টি, খুলনায় ৬৮টি ও যশোরে ৬৩টি। এছাড়া কুষ্টিয়ায় ৫৬টি, চুয়াডাঙ্গায় ৪২টি, নড়াইলে ৩৪টি, মেহেরপুরে ২৬টি ও মাগুরায় ২৫টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে।

বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে গত ৬ মাসে খুলনা বিভাগে ১,১০০টি উঠান বৈঠক করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যধি। এটি আমাদের কোমলমতি সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়। এ থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। শিশুর মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে অভিভাবকদের উচিত বেশি করে সন্তানদের সময় দেওয়া, শিশুরা যেন ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত না হয় সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখা, ভালো ভালো বই উপহার দেওয়াসহ শিশুর মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে পজিটিভ ধারণা দেওয়া।”

তিনি বলেন, “মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিয়মিত উঠান বৈঠক করতে হবে। উঠান বৈঠকে বাল্য বিবাহের সমস্যা ও আইনগত দিকসমূহ তুলে ধরতে হবে। এমনকি ছোট ছোট ভিডিওর মাধ্যমে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। অভিভাবকদের মানসিক চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন আনতে হবে, যেন তাদের সন্তানেরা পড়াশুনা শেষ করে দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত হতে পারে।”

এ সময় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “খুলনা জেলার পাশাপাশি খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের বাল্যবিবাহ রোধ করার বিষয়ে প্রচার জোরদার করতে হবে।”

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-সহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।