খাগড়াছড়ি সদর থানায় পাল্টাপাল্টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা ও এক নেত্রী। দুইজনই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (১২ জুলাই) প্রথমে নেত্রী এবং রবিবার ওই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় এই জিডি করেন।
এই দুইজন হলেন- এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য মনজিলা সুলতানা এবং গুইমারা উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক ও খাগড়াছড়ি জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক মো. রাসেল শেখ।
সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা সূত্র জানায়, শনিবার খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে মনজিলা সুলতানার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন রাসেল শেখ। পরে ওই দিনই “ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য” দিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে সদর থানায় রাসেলের বিরুদ্ধে জিডি করেন মনজিলা। পরদিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে মনজিলার বিরুদ্ধে পাল্টা সাধারণ জিডি করেন রাসেল।
সংবাদ সম্মেলনে রাসেল অভিযোগ করেন, মনজিলা সুলতানা সম্প্রতি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন বাজার তহবিলের নিয়ন্ত্রণাধীন গুইমারা বাজারের ইজারার শেয়ারের লভ্যাংশ আত্মসাৎ করেছেন। পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে সংগঠনের নামে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাজ, ১৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন প্রকল্প নিজের নামে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
এসব অভিযোগের পরই থানায় জিডি করেন মনজিলা। এতে তিনি উল্লেখ করেন, রাসেল শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে মনজিলাকে নিয়ে পোস্ট করেছেন। পোস্টে তিনি একাধিক নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এরপর বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে কুরুচিপূর্ণ, হেয়প্রতিপন্ন করে সম্মানহানিকর পোস্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন মনজিলা।
এই বিষয়ে মনজিলা সুলতানা সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “গুটিকয় লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, যাতে এনসিপি এখানে টিকে থাকতে না পারে। আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে জিডি করেছি।”
রাসেল শেখ বলেন, “মনজিলা সুলতানার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার পর থেকে আমাকে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই জিডি করেছি।”
জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, “দুটি জিডি তদন্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”