নীতির প্রশ্নে আপসহীন এক রাষ্ট্রনায়ক তাজউদ্দীন আহমদ

আজ দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্থপতি তাজউদ্দীন আহমদের ১০০তম জন্মবার্ষিকী।

১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তাজউদ্দীন আহমদ। দেশের জন্য তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় এই নেতার শতবর্ষ পালিত হচ্ছে।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক জাগরণে তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন অন্যতম অগ্রণী নেতা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ ও ১৯৭০-এর শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

তার কৌশলী নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি রচনা করে।

১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হলে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাজউদ্দীন আহমদ।

তিনি ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দেন। সাহস, দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক দক্ষতায় তিনি মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন।

জাতির স্থপতি

স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর তাজউদ্দীন ঢাকায় ফিরে আসেন এবং প্রথম মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা নতুন প্রজাতন্ত্রের মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণে সহায়তা করে।

এতসব অবদানের পরও তার রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তিটা মধুর ছিল না।

১৯৭৪ সালে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তাকে গৃহবন্দি করা হয়।

সেই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এএইচএম কামরুজ্জামান ও এম মনসুর আলীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়—এই দিনটি এখন “জেলহত্যা দিবস” হিসেবে পালিত হয়।

পরম্পরা

তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিক হিসেবে বিবেচিত।

মুক্তিযুদ্ধকালীন তার নেতৃত্ব, অর্থনীতি ও সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অবিচল থাকা—সব মিলিয়ে তিনি আজও শ্রদ্ধার পাত্র।

তার চার সন্তান—শারমিন আহমদ, সিমিন হোসেন রিমি, মাহজাবিন আহমদ এবং তানজিম আহমদ সোহেল তাজ—তার আদর্শকে ধারণ করে আজও জনসেবা ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়।

তার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সেন্টার ফর তাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকটিভিজম’সহ বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা, প্রদর্শনী ও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে “মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য সারথী: তাজউদ্দীন আহমদ শতবর্ষ” শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার আয়োজন করেছে। সেমিনারে বক্তা হিসেবে থাকছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আহমদ মোস্তফা কামাল ও গওহর নঈম ওয়ারা প্রমুখ।