স্নায়ু বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে যুগান্তকারী জাতীয় গবেষণা চালু

দেশে প্রথমবারের মতো স্নায়ু বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা (নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজ) বিষয়ক জাতীয় গবেষণা উন্মোচিত হয়েছে। এই গবেষণা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্নায়ুবিক বিকাশের প্রতিবন্ধকতার প্রকৃত চিত্র, কারণ ও করণীয় সম্পর্কে দেশের স্বাস্থ্য ও সমাজখাতকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘‘স্নায়ু বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা উন্মোচন’’ অনুষ্ঠিত হয়।

স্নায়ু বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা উন্মোচন অনুষ্ঠান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের  উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের জিওগ্রাফিক অনুযায়ী সমতল অঞ্চল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের হিউম্যান রিসার্চের উপর নজর দেওয়া জরুরি। আমাদের দেশে হিউম্যান রিসার্চ এর জন্য যে পরিমাণ গবেষক প্রয়োজন তা প্রয়োজনীয়র তুলনায় অনেক কম। গবেষণা কাজে নিয়োজিত গবেষকদের  এই গবেষণা আমাদের দেশের শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের স্নায়ু বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতার প্রকৃত চিত্র, কারণ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেবে।’’

তিনি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজ (স্নায়ু বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা) বিষয়ক জাতীয় গবেষণা উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আফসান ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের চিফ এক্সিকিউটিভ মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ফ্যামিলি হেলথবিষয়ক প্রফেসর তানভীর হাসান, ব্রাক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মলয় কান্তি মৃধা এবং আফসান ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি ড. মোসাদ্দেক আহমেদ চৌধুরী বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে গবেষক, চিকিৎসক, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে সামাজিক বাঁধা রয়েছে। কিন্তু আজকের এই গবেষণা আমাদের দেখাচ্ছে প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা একত্রে কীভাবে একটি শিশুকে সম্ভাবনার জগতে পৌঁছে দিতে পারে।”

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সংবিধান, শিশু নীতি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী প্রতিটি শিশু, প্রতিবন্ধী হোক বা না হোক, তাদের পূর্ণ মর্যাদা ও সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে। এই গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ, স্কুলব্যবস্থা, থেরাপি ও পরিবার-ভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী।”