মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়বে ১২ লাখ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে চলতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ গরিব মানুষ বাড়তে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় কমতে পারে। তারা দারিদ্র্য সীমার ওপরে উঠতে পারবে না, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এপ্রিল মাসের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা।

প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের কত মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবেন না, তার হিসাব দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯% হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অন্তত ছয়টি খাতে পড়তে পারে। ১. চলতি হিসাবের ভারসাম্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়, টাকার অবমূল্যায়নে প্রভাব পড়তে পারে। ২. ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে টান পড়তে পারে। ৩. জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। ৪. ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যেতে পারে। ৫. আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। সার ও জ্বালানিতে ভর্তুকি খরচ বৃদ্ধি বাড়বে। ৬. বৈষম্য বাড়তে পারে। ২০২৬ সালে গিনি সূচক ০.২% বেড়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ নানা কারণে দারিদ্র্য বাড়ছে। ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭%। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১.৪%। ২০২৫ সালে নতুন করে ১৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন।

এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে , মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে ধারণা করা হয়েছিল চলতি বছর ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠবেন, কিন্তু যুদ্ধের কারণে মাত্র ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারেন। অর্থাৎ, এ বছর প্রায় ১২ লাখ মানুষ দরিদ্র থেকে যাবে। বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, যুদ্ধাবস্থা না থাকলে ২০২৮ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ১৯.৩%-এ নামতে পারে।

প্রতিবেদনে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ হয়েছে। এগুলো হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমের কম মজুরি, কর্মসংস্থানের গতি কমে যাওয়া। এ ছাড়া বৈষম্য বাড়বে, এমন পূর্বাভাসও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে এ বছর দারিদ্র্যের হার কমবে মাত্র ০.৭%। প্রতিবছর গড়ে ১%-এর বেশি হারে দারিদ্র্য কমে।

বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর (বাংলাদেশ ও ভুটান) জ্যঁ পেম বলেন, “বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে দারিদ্র্য কমার গতি কমেছে। কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা দরকার।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত দিনে প্রয়োজনীয় যেসব সংস্কারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা যেন অব্যাহত থাকে। যদিও সংস্কার করা খুব কঠিন হবে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।”