যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আমদানির ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপ অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির ফেডারেল আদালত। একইসঙ্গে মামলাকারীদের কাছ থেকে আদায় করা শুল্ক ফেরত দিতে এবং ভবিষ্যতে তাদের ক্ষেত্রে এ শুল্ক কার্যকর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) ফেডারেল আদালতের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ওই রায়ে জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড আইন অনুসারে এই শুল্ক আরোপের যথেষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা সব আমদানি পণ্যের ওপর ১০% শুল্ক বৈধ নয়।
আদালত বলেছে, সরকারের দাবি করা বাণিজ্য ঘাটতির পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যা এই ধরনের শুল্ককে বৈধতা দিতে পারে।
রায়ে আরও বলা হয়, মামলার সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলোর কাছ থেকে এই শুল্ক আদায় বন্ধ করতে হবে এবং আগে নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত আপাতত শুধু মামলাকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অন্য আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে শুল্ক জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারেন। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করেছে, এই মামলায় সেই শর্তগুলো পূরণ হয়নি। ফলে প্রশাসনের পদক্ষেপ আইনি ভিত্তি হারিয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত হয়ে এলআ। তবে তারা বিকল্প হিসেবে দেশভিত্তিক শুল্ক আরোপের নতুন কৌশল বিবেচনা করছে।
এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টও ট্রাম্পের বিস্তৃত শুল্ক নীতির কিছু অংশ অবৈধ ঘোষণা করেছিল। ফলে একের পর এক আইনি চ্যালেঞ্জে তার বাণিজ্য নীতি জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে শুল্ক নীতি আরও সীমিত হয়ে আসতে পারে।