রিটার্নে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের মূল্য জানাতে হবে

আয়কর রিটার্নে উত্তরাধিকার সূত্রে বা উপহার হিসেবে পাওয়া সম্পদের আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে আগামী অর্থবছর থেকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ধনী করদাতারা তাদের আয়কর রিটার্নে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি, ফ্ল্যাট, জমি ও স্বর্ণ পাওয়ার পর ওইসব সম্পদের ক্ষেত্রে বলা হয় 'মূল্য অজানা'। এর ফলে এ ধরনের করদাতাদের কোটি কোটি টাকার বাস্তব সম্পদ থাকলেও এসব সম্পদের ওপর সরকার কোনো ধরনের রাজস্ব পায় না।

সংশ্লিষ্ট এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, নতুন উদ্যোগের আওতায় এ ধরনের সমস্ত সম্পদের অর্থমূল্য করদাতার ট্যাক্স ফাইলে যুক্ত করতে হবে রিটার্ন জমার সময়।

এনবিআর কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন করে ভ্যালুয়েশন করা হলে প্রায় চার হাজার নতুন করদাতা ওই সারচার্জের আওতায় আসবেন। পাশাপাশি সারচার্জের আওতায় থাকা বিদ্যমান করদাতাদেরও সম্পদের পরিমাণও বাড়বে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই পদ্ধতিতে ভ্যালুয়েশনের কারণে নতুন করে প্রায় ২ হাজারের বেশি ব্যক্তি চার কোটি টাকার সম্পদের সীমা অতিক্রম করবেন। আর যারা বর্তমানে এই সীমা অতিক্রম করেছেন, তাদেরও সম্পদের অর্থমূল্যের পরিমাণ বাড়বে। এর মাধ্যমে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাড়তি প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে সম্পদ কর নেই, তবে চার কোটি টাকার উপরে সম্পদ থাকলে প্রতি বছরের আয়ের উপর সারচার্জ দিতে হয়।

এনবিআরের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার ব্যক্তি তাদের সম্পদের উপর সারচার্জ পরিশোধ করেন, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।

বর্তমানে কোনো ব্যক্তির সম্পদের মূল্য ৪ কোটি টাকার বেশি হলে তিনি সারচার্জের আওতায় আসেন। সারচার্জের পরিমাণ ১০% থেকে ৩৫%  পর্যন্ত। সম্পদের মূল্য ৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা হলে সারচার্জ ১০%, ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর ২০%, ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার সম্পদের ওপর ৩০% এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ হলে তার ৩৫% হারে সারচার্জ দিতে হয়।

সারচার্জ প্রদেয় করের ওপর হিসাব করা হয়। ধরা যাক, কোনো করদাতা এক বছরের জন্য ২ লাখ টাকা আয়কর দিলেন, কিন্তু তার সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। তাহলে তার ওপর আরোপিত ১০% সারচার্জ হিসেবে বাড়তি দিতে হয় ২০,০০০ টাকা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই এনবিআর দেশের ‍ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন এলাকা অনুযায়ী বিগত ৪০ বছরের মৌজা মূল্যের তথ্য সংগ্রহ করবে। সম্পদের সঠিক মূল্য নির্ধারণ সহজ করতে এই তথ্য অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন সিস্টেমে যুক্ত করা হবে।

এর ফলে আগামী বছর যারা রিটার্ন জমা দেবেন, তারা জমি, ফ্ল্যাট কিংবা স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য 'অজানা' দেখানোর সুযোগ আর থাকবে না।