বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে সবচেয়ে বড় পতনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। 

এসবের নেতিবাচক প্রভাবে চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৩.২% কমেছে, যা গত ১ জুনের পর সবচেয়ে বড় পতন। চলতি সপ্তাহে জুনের মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী ধারা স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে তা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৫% বেড়ে ৩,৯৮৮.২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যদিও সেশনের শুরুতে এটি ১ জুলাইয়ের পর থেকে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল।অন্যদিকে, আগস্টে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩,৯৯২ ডলারে অপরিবর্তিত রয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনও প্রকট। মূলত মূল্যস্ফীতি এবং ইল্ড (মুনাফা) নিয়ে উদ্বেগই এখন স্বর্ণের দামকে আটকে রাখার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তেলের দামের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা মূল্যস্ফীতির শঙ্কাকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে, যা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বেশি মুনাফা দেয় এমন সম্পদের দিকেই ঝুঁকে পড়েন, ফলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন বা মুনাফাবিহীন সম্পদের কদর কমে যায়।

এদিকে, স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৫% কমে প্রতি আউন্স ৫৫.২২ ডলার, প্লাটিনামের দাম ০.৭% কমে ১,৬০৫.৬২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৪% কমে ১,২৪৪.৮৬ ডলারে নেমেছে। সপ্তাহ শেষে এই তিনটি ধাতুর দামই পতনের দিকে যাচ্ছে।