মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালো। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চলতি বছরের মে মাসের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এ পর্যায়ে উঠলো।
তবে এবার পরিস্থিতি আগের চেয়ে বেশি উদ্বেগজনক হতে পারে। কারণ সংঘাত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। একইসঙ্গে মজুত তেলের একটি অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে।
এবারের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা। এতে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বিশ্বে দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ৯৪ লাখ ব্যারেল কম রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের প্রথম পর্যায় চলাকালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য নির্ধারণের মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সর্বশেষ এ বছরের ১২ মার্চ ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করে। এর আগে, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর সময়ও তেলের দাম এ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বে প্রতিদিন ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল ব্যবহৃত হয়। লোহিত সাগরের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের রুট ব্যবহার করে আসছিল।
যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহন বাড়ায়। এর ফলে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ পরিমাণ তেল রপ্তানি সম্ভব হয়েছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মায়া সেনুসি বলেন, “এই বিকল্প ব্যবস্থাও এখন চাপে পড়েছে। কারণ অবরোধ এবং জাহাজে হামলার ঝুঁকির কারণে স্বল্পমেয়াদে লোহিত সাগরপথে চলাচল কম কার্যকর হয়ে উঠবে।”
তাদের শঙ্কা, যদি লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি, দুই পথই কার্যত জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলের দাম শেষ পর্যন্ত ব্যারেল প্রতি ১৬০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, কয়েকটি দেশের রপ্তানি বেড়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পথে তেল বিশ্ববাজারে পাঠাতে সক্ষম হচ্ছে।
ব্রাজিল, কাজাখস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাসহ কয়েকটি উৎপাদনকারী দেশ তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে চীন তেল আমদানি কমানোর চেষ্টা করছে। এ ছাড়া আইইএ’র সদস্য প্রায় ৩০টি দেশের সম্মিলিত তেলের মজুত একশ কোটি ব্যারেলেরও বেশি।
চলতি মাসের শুরুতে কেপলার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসাব করে জানায়, সমুদ্রে পরিবহন করা তেলের পরিমাণ রেকর্ড ১৩৫ কোটি ব্যারেলে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি অপরিশোধিত তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে।