আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের হাতে ফিরে গেছে। নতুন পর্ষদে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের প্রতিনিধিদের প্রাধান্য পাওয়া নিয়ে ব্যাংক খাতে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালক নিয়োগের দুই দিনের মাথায় একই গ্রুপের দুজন প্রতিনিধিকে পর্ষদ থেকে বাদ দিতে হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একটি পরিবার বা গ্রুপ থেকে তিনজনের বেশি পরিচালক থাকার সুযোগ না থাকায় কেডিএস গ্রুপের প্রতিনিধি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। পরে তাঁদের পরিবর্তে খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান।

পর্ষদ পুনর্গঠনের পর ব্যাংকের ভেতরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা। তাঁদের দাবি, আগে বিভিন্ন অভিযোগে চাকরিচ্যুত কয়েকজন কর্মকর্তাকে আবারও ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। নতুন পর্ষদের প্রথম সভাতেও তাঁদের কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিল এস আলম গ্রুপ। সে সময় কেডিএস গ্রুপও ব্যাংকটির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করে। প্রায় দুই বছর ধরে সেই পর্ষদ ব্যাংকটি পরিচালনা করে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে বিভিন্ন পক্ষ তৎপর হয়ে ওঠে। পরে ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারীদের মধ্য থেকে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে আগের পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালককেও বহাল রাখা হয়।