‘স্টক এক্সচেঞ্জের আধুনিকায়ন ধাপে ধাপে হওয়া উচিত, একবারে নয়’

ঢাকা ট্রিবিউন:  আপনি ডিএসইতে ১২ বছর ধরে কাজ করছেন। এই দীর্ঘ পথচলাকে কীভাবে দেখেন?

মুনশি মোস্তাফিজুর রহমান: আমি ২০১৪ সালে সিস্টেম অ্যান্ড মার্কেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে যোগ দিই। তখন আমার দায়িত্ব ছিল মূল ট্রেডিং সিস্টেম তত্ত্বাবধান করা। 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি ইনফ্রাস্ট্রাকচার নেতৃত্বের দায়িত্বে আসি। এই যাত্রার মূল বিষয় ছিল, বাজারের কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে ধাপে ধাপে এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে আধুনিক করা। 

যেসব অর্জন নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি গর্বিত, তার মধ্যে রয়েছে ডিএসই টাওয়ারে রেটেড-৩ ডেটা সেন্টার এবং নেয়ার ডিজাস্টার রিকভারি সাইট স্থাপন। 

এছাড়া আমাদের মূল অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ওএমএস-কে নতুন ভার্চুয়ালাইজেশন প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করা, যা এক্সচেঞ্জের জন্য সবচেয়ে বড় বার্ষিক ব্যয় সাশ্রয়ের অন্যতম উদ্যোগ ছিল।

আমি ভার্চুয়াল এনওসি মনিটরিং প্ল্যাটফর্মও তৈরি করেছি এবং আমাদের পার্টনার এক্সচেঞ্জের সঙ্গে ওপেনস্ট্যাক ভিত্তিক একটি ফাইন্যান্সিয়াল প্রাইভেট ক্লাউড বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার এ্যাস এ সার্ভিস (এলএএএস) বাস্তবায়ন করেছি।

আপনি ওপেন-সোর্স প্রযুক্তির একজন প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত। সতর্কতাপ্রবণ আর্থিক বাজারের পরিবেশে ওপেন-সোর্স প্রযুক্তির প্রতি আপনাকে কী আকৃষ্ট করেছে?

আর্থিক বাজার সতর্ক থাকবে, এটাই স্বাভাবিক এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে। কারণ এখানে নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তাই সবার আগে। 

তবে বর্তমানে ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রযুক্তিগত অবকাঠামোই ওপেন-সোর্স প্রযুক্তির ওপর পরিচালিত হচ্ছে।

আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে এর অভিযোজনযোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং ব্যয়-সাশ্রয়ের সমন্বয়। 

এটি আমাদের লাইসেন্সিং-নির্ভরতার সীমাবদ্ধতা বা লক ইন এড়িয়ে চলার সুযোগ দেয়। 

একই সঙ্গে আমাদের পরিবেশে ঠিক কী চলছে, তা গভীরভাবে বোঝার এবং বৃহৎ পরিসরে অটোমেশন করার সুযোগ তৈরি করে।

তবে এখানে মূল বিষয় হলো শৃঙ্খলা। ওপেন-সোর্স হলেও পেশাদার সাপোর্ট, দক্ষ জনবল, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং শক্তিশালী গভর্ন্যান্স প্রয়োজন।

বাংলাদেশের প্রথম রেড হ্যাট সার্টিফাইড ইন্সট্রাক্টর (আরএইচসিআই) এবং রেড হ্যাট সার্টিফাইড আর্কিটেক্ট (আরএইচসিএ) হিসেবে আমি এই শৃঙ্খলাভিত্তিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা সরাসরি দেখেছি।

একটি পুরোনো বা লিগ্যাসি স্টক এক্সচেঞ্জ কীভাবে আধুনিকায়নের দিকে এগোবে?

এটি অবশ্যই ধাপে ধাপে রূপান্তরের মাধ্যমে করতে হবে। কখনোই একসঙ্গে সবকিছু বদলে ফেলা উচিত নয়। 

লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি উচ্চলভ্য, স্কেলযোগ্য, স্বয়ংক্রিয় এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল বাজার অবকাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে ট্রেডিং কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

প্রযুক্তির বিবর্তন আমরা দেখেছি ফিজিক্যাল সার্ভার থেকে ভার্চুয়ালাইজেশনে, এরপর ক্লাউডে, তারপর কনটেইনার ও অটোমেশনে। 

বর্তমানে ফিনটেক অবকাঠামোয় মাইক্রোসার্ভিস এবং কনটেইনারাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কনটেইনারাইজেশন বলতে মূলত একটি অ্যাপ্লিকেশনকে এমনভাবে প্যাকেজিং করাকে বোঝায়, যাতে সেটি যেকোনো প্ল্যাটফর্মে একইভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হতে পারে। 

এর ফলে আগে থেকে চলমান সিস্টেমে কম প্রভাব ফেলে নতুন পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।

বাস্তবে আমি প্রথমে মূল ম্যাচিং ইঞ্জিন দিয়ে শুরু করতাম। ধীরে ধীরে মনোলোথিক সিস্টেমকে এমন সব স্বতন্ত্র সার্ভিসে রূপান্তর করতাম, যেগুলো আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়।

এরপর অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ওএমএস-কে পর্যায়ক্রমে কনটেইনারাইজড প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনর্গঠন করা যেতে পারে। 

আমাদের পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারলে স্থানীয়ভাবে তৈরি ফিনটেক সমাধানও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

এতো পরিবর্তনের মধ্যেও প্ল্যাটফর্মের নির্ভরযোগ্যতা কীভাবে নিশ্চিত করেন?

নির্ভরযোগ্যতা শুরু থেকেই সিস্টেমের ডিজাইনের মধ্যে তৈরি করতে হয়। শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করলেই জিরো ডাউনটাইম নিশ্চিত করা যায় না। 

এর জন্য প্রতিটি স্তরে রিডানডেন্সি থাকতে হবে, ক্লাস্টারিং এর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় ফেইলওভার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং একাধিক সাইটজুড়ে ডিজাস্টার রিকভারি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। যেন একটি মাত্র ত্রুটি বা ব্যর্থতা কখনোই ট্রেডিং কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে না পারে।

অটোমেশন এবং রিয়েল টাইম অবজার্ভবেলিটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ইনফ্রাস্ট্রাকচার এ্যাজ কোড অর্থাৎ ম্যানুয়ালি পরিবেশ তৈরি বা পরিচালনার পরিবর্তে কোডের মাধ্যমে অবকাঠামো নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা-পুরো ব্যবস্থাকে আরও মানসম্মত এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য করে তোলে।

ভিএমওয়্যার থেকে ডিসিএস ভার্চুয়ালাইযেশন প্ল্যাটফর্ম- এ মূল ওএমএস স্থানান্তরের ফলে বড় ধরনের সাশ্রয় হয়েছে বলে জানা যায়। এটি কীভাবে সম্ভব হয়েছে?

ডিসিএস হলো আমাদের নতুন এন্টারপ্রাইজ গ্রেড ভার্চুয়ালাইজেশন প্ল্যাটফর্ম। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রোডাকশন ডেপলয়মেন্ট পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় আমি যুক্ত ছিলাম।

ওএমএস যেহেতু একটি মিশন ক্রিটিকাল সিস্টেম, তাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ছিল ট্রেডিং কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ছাড়াই এর রূপান্তর সম্পন্ন করা। 

ভিএমওয়্যার থেকে সরে এসে এবং আমাদের লাইসেন্সিং মডেল আরও কার্যকরভাবে অপটিমাইজ করার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য বার্ষিক ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। 

একই সঙ্গে ডিসিএস আমাদের আরও স্কেলযোগ্য একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। দৈনন্দিন কার্যক্রমে অটোমেশনের পরিমাণও বেড়েছে, যার ফলে ম্যানুয়াল কাজ কমেছে এবং কনফিগারেশন এরর হওয়ার ঝুঁকিও কমেছে।

এটি নিশ্চয়ই অত্যন্ত উচ্চঝুঁকির একটি কাজ ছিল। এমন কোনো মুহূর্ত কি ছিল, যা আপনাকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে?

চূড়ান্ত কাটওভার এর সেই সপ্তাহগুলি ছিল আমার পুরো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে তীব্র ও চ্যালেঞ্জিং সময়গুলোর একটি।

আপনি যখন এমন একটি সিস্টেম মাইগ্রেট করছেন, যার ওপর দেশের শেয়ারবাজারের ট্রেডিং পরিচালিত হয়, তখন পরবর্তী ট্রেডিং দিনের সকালে বাজার সময়মতো খুলতেই হবে, এখানে কোনো বিকল্প নেই। 

আমরা টেস্ট ও ইউএটি এনভায়ারনমএন্টে কয়েক সপ্তাহ ধরে বারবার পুরো প্রক্রিয়ার রিহার্সাল করেছি। 

প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করেছি এবং একটি সম্পূর্ণ রোলব্যাক প্ল্যান প্রস্তুত রেখেছি। আমাদের পুরো টিম রাতভর থেকে প্রতিটি ধাপ যাচাই করেছে।

পরের দিন সকালে যখন বাজার স্বাভাবিকভাবে খুলল এবং ট্রেডাররা বুঝতেই পারলেন না যে পেছনে এত বড় একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হয়েছে, তখন সেটিই ছিল একটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার টিমের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশংসা।

এখান থেকে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি, মিশন ক্রিটিকাল টেকনোলোজিতে সফলতা অনেক সময় চোখে পড়ে না। 

ডিএসইর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিয়ে অতীতে জনসমালোচনা হয়েছে, বিশেষ করে ট্রেডিং এ বিঘ্ন ঘটা নিয়ে। বিনিয়োগকারীদের আপনি কী বলতে চান?

আমি এটুকু বলতে পারি, নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার যেসব জায়গা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ডিএসই সেসব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ করেছে। 

এর মধ্যে রয়েছে একটি সার্টিফাইড রেটেড-৩ ডেটা সেন্টার, ডেডিকেটেড ডিজাস্টার রিকভারি ব্যবস্থা, আধুনিক ভার্চুয়ালাইজেশন প্ল্যাটফর্ম, সেন্ট্রালাইজড মনিটরিং এবং আরও শক্তিশালী বা হারডেন্ড সিস্টেমস।

বিশ্বের কোনো স্টক এক্সচেঞ্জই নিশ্চয়তা দিতে পারে না যে কখনোই কোনো সমস্যা হবে না। 

তবে একটি দায়িত্বশীল এক্সচেঞ্জ প্রতিশ্রুতি দিতে পারে যে সম্ভাব্য ব্যর্থতাগুলো আগে থেকেই বিবেচনায় নেওয়া হবে, সমস্যা হলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হবে। প্রতিটি ইনসিডেন্ট থেকেই সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার শিক্ষা নেওয়া হবে।

এখন আমাদের আর্কিটেকচার-এ রেজিলিয়েন্স বা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সক্ষমতা শুরু থেকেই নকশার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, পরে আলাদাভাবে যুক্ত করা হচ্ছে না।

আপনি ভার্চুয়াল নক (NOC) নামে একটি কাস্টম মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। এটি কী?

ব্যাংক ও টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ২৪ ঘণ্টা পরিচালিত ফিজিক্যাল নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার বা নক (NOC) ব্যবহার করে। 
আমি একই ধরনের কাজ আরও ব্যয়-সাশ্রয়ীভাবে করার জন্য ভার্চুয়াল নক (NOC) বা ভি নক তৈরি করেছি, যা বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে নিবন্ধিত। 

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সার্ভার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস, স্টোরেজ, ফায়ারওয়াল, লোড ব্যালান্সার, ইউপিএস সিস্টেম এবং ডাটা সেন্টারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট এর একটি সেন্ট্রালাইজড, রিয়েল টাইম ভিউ পাওয়া যায়।

কোনো কিছু অস্বাভাবিক আচরণ করলেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভয়েস কল, এসএমএস এবং ইমেইল-এর মাধ্যমে এ্যালার্ট পাঠাতে পারে। এর পাশাপাশি রয়েছে সার্ভার হার্ডেনিং। 

অর্থাৎ সার্ভারগুলোকে কঠোর কনফিগারেশন, নিয়মিত প্যাচিং এবং এ্যাক্সেস কন্ট্রোল-এর মাধ্যমে আরও নিরাপদ রাখা।

মনিটরিং এবং হার্ডেনিং একসঙ্গে আমাদের আর্লি ডিটেকশন এবং প্রিভেনশন দুই ক্ষেত্রেই সক্ষমতা দেয়।

সামনে এআই, হাই পারফর্ম‍্যান্স কম্পিউটিং এবং ব্লকচেইন পুঁজিবাজারকে কীভাবে প্রভাবিত করবে?

এআই ভিত্তিক সারভেইল্যান্স বাজার পর্যবেক্ষণকে অনেক বেশি বুদ্ধিমান করে তুলবে।

এটি বিপুল পরিমাণ ট্রেডিং ডাটা বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং পূর্বনির্ধারিত নিয়মের তুলনায় অনেক দ্রুত সম্ভাব্য অপব্যবহার শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। 

একই সঙ্গে সন্দেহজনক বা সম্ভাব্য প্রতারণামূলক কার্যক্রম ঘটার আগেই সেগুলোর লক্ষণ শনাক্ত করার সক্ষমতাও তৈরি হবে। ডেটার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং বাজারে অত্যন্ত কম ল্যাটেন্সি-এর চাহিদা তৈরি হওয়ায় হাই পারফর্ম‍্যান্স কম্পিউটিং ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ব্লকচেইন এর প্রকৃত সম্ভাবনা রয়েছে পোস্ট ট্রেড সেটেলমেন্ট, অ্যাসেট ওনারশিপ এবং রিকন্সিলিয়েশন-এর মতো ক্ষেত্রে। 

তবে এটি শুধু প্রযুক্তিটি জনপ্রিয় বা ফ্যাশনেবল বলে গ্রহণ করা উচিত নয়। নির্দিষ্ট কোনো সমস্যায় প্রচলিত ডাটাবেস-এর তুলনায় এটি স্পষ্টভাবে ভালো সমাধান দিতে পারলেই ব্যবহার করা উচিত।

একটি নেক্স জেনারেশন স্টক এক্সচেঞ্জ এর জন্য কী ধরনের অবকাঠামো প্রয়োজন?

কমপক্ষে টিয়ার-৩ অথবা রেটেড-৩ স্ট্যান্ডার্ড এর একটি সার্টিফাইড ডাটা সেন্টার প্রয়োজন, যেখানে পাওয়ার, কুলিং এবং কানেক্টিভিটি-এর প্রতিটি স্তরে রিডানডেন্সি থাকবে।

এরপর প্রয়োজন ডিজাস্টার রিকভারি-এর দুটি স্তর। একটি নেয়ার-ডিআর সাইট, যা প্রাইমারী সাইট-এর কাছাকাছি থাকবে, যাতে দ্রুত এবং প্রায় সিনক্রোনাস রিকভারি সম্ভব হয়।

আরেকটি ফার-ডিআর সাইট, যা ভৌগোলিকভাবে যথেষ্ট দূরে থাকবে এবং যথোচিতভাবে ভিন্ন টেকটোনিক প্লেট-এ অবস্থান করবে। যেন ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, বন্যা কিংবা বড় ধরনের গ্রিড ফেইলিউর এর মতো আঞ্চলিক দুর্যোগে প্রাইমারি সাইট এবং নেয়ার-ডিআর সাইট দুটিই একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সিস্টেম পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে।

এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে সফটওয়্যার ডিফাইন্ড, স্কেলেবল কম্পিউটিং, এআই-এনাবলড সাইবার সিকিউরিটি এবং সংবেদনশীল মার্কেট ডাটা কোথায় সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে, সে বিষয়ে শক্তিশালী গভর্নেন্স।

একটি ভবিষ্যৎ এর জন্য প্রস্তুত স্টক এক্সচেঞ্জ মানে শুধু আরও বড় একটি ডাটা সেন্টার নয়। এটি একটি রেসিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেম, যেখানে এসব উপাদান একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে।

সবশেষে, আগামী ১০ বছরে আপনি ডিএসই এবং নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

আমি ডিএসইকে এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখতে চাই। একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল, ক্লাউড ন্যাটিভ এক্সচেঞ্জ যেখানে এআই ভিত্তিক সারভেইল্যান্স এবং সাইবার রেসিলিয়েন্স পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে অন্তর্নির্মিত থাকবে। 

এটি নতুন ধরনের পণ্য ও সেবা চালু করতে সহায়তা করবে, তাৎক্ষণিক সেটেলমেন্ট এর সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

নিজের ক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমার ভূমিকা ধীরে ধীরে শুধু ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি ও পরিচালনার জায়গা থেকে টেকনোলজি স্ট্র্যাটেজি গঠন, পরবর্তী প্রজন্মের প্রকৌশলীদের মেন্টরিং করা এবং দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে এগোবে।

আজ থেকে ১০ বছর পর যদি ডিএসই একটি রেসিলিয়েন্ট এবং বহুলাংশে দেশীয় সক্ষমতায় গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হয়, আর যে দক্ষ টিম গড়ে তুলতে আমি ভূমিকা রেখেছি তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই প্রযুক্তির নেতৃত্ব দেয়-তাহলে আমি সেটিকেই আমার সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করবো।