যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কৌশলগত জ্বালানি মজুত অবিলম্বে বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো।
ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইইউর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের জরুরি বৈঠক শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে।
জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ কমাতে ইউরোপের সহায়তা পেতে ওয়াশিংটনও চাপ বাড়াচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথা জানান।
ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান মারোস সেফকোভিচ বৃহস্পতিবার মিলওয়াকিতে জি২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করলে তা ইউরোপীয়দের জন্য অপ্রত্যাশিত হবে।”
তিনি বলেন, “সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ইউরোপের অর্থনীতির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।”
সেফকোভিচ জানান, বৈঠকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে আটলান্টিকের দুই পাড়ের অংশীদাররা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে এ বিষয়ে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
চলমান সরবরাহ সংকট
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানিকে তাদের কৌশলগত ডিজেল মজুতের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে ডিজেলের দাম বেড়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে এবং চলমান সরবরাহ বিঘ্ন মোকাবিলায় অতিরিক্ত জ্বালানি অবিলম্বে বাজারে সরবরাহ করতে হবে।”
ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের পথে ফ্রান্স
ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিকোলা ফোরিসিয়ের মিলওয়াকিতে বলেন, “আমি ভাবতেই পারি না যে, ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।”
ফোরিসিয়ের আরও বলেন, “ফ্রান্সে আমরা সারা বিশ্বে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। আমেরিকানদের সঙ্গে না হলে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও ট্রাম্পের বৈঠকে কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে তেল বা ডিজেল ছাড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি।
প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম ৭০%-এর বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে।
এর ফলে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।