নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নির্বাচনী বছরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশে-বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু সবাইকে ভ্রমণ কর দিতে হবে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির কাছ থেকে ভ্রমণ কর নেয় না।
এছাড়াও এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে যে কাউকে এই ভ্রমণ কর দেওয়া থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। কাদের ভ্রমণ কর দিতে হয় না, দেখে নেওয়া যাক-
১. পাঁচ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সের কোনো যাত্রী।
২. হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গমনকারী ব্যক্তি।
৩. অন্ধ ব্যক্তি বা ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী বা স্ট্রেচার ব্যবহারকারী পঙ্গু ব্যক্তি।
৪. জাতিসংঘের কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা।
৫. বাংলাদেশে অবস্থিত কূটনীতিক মিশনের কূটনৈতিক মর্যাদাসম্পন্ন সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
৬. বাংলাদেশে কর্মরত বিশ্বব্যাংক, জার্মান কারিগরি সংস্থা ও জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্য।
৭. বিমানে দায়িত্বরত ক্রু।
৮. বাংলাদেশের ভিসাবিহীন ট্রানজিট যাত্রী, যারা ৭২ (বাহাত্তর) ঘণ্টার অধিক সময় বাংলাদেশে অবস্থান করবেন না।
৯. যেকোনো বিমান সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি বিনা ভাড়ায় অথবা হ্রাসকৃত ভাড়ায় বিদেশে যাবেন, তাদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ কর প্রযোজ্য হবে না।
প্রস্তাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে আকাশপথে উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, চীন, জাপান, হংকং, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও তাইওয়ানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক যাত্রীকে ছয় হাজার টাকা ভ্রমণ কর দিতে হবে।
উল্লিখিত দেশগুলো বাদে আকাশপথে অন্য যেকোনো দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে চার হাজার টাকা ভ্রমণ কর দিতে হবে। আর আকাশপথে দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ২০০ টাকা ভ্রমণ কর দিতে হবে। স্থলপথে যেকোনো দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা ভ্রমণ কর গুনতে হবে। জলপথ তথা সমুদ্রপথে যেকোনো দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা গুনতে হবে।