এখন থেকে বিভিন্ন ধরনের নিবন্ধন, সনদ, লাইসেন্স প্রাপ্তি, আবেদন জমা দেওয়ার সময় আয়কর রিটার্নের প্রমাণ জমা দিতে হবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের উপস্থাপিত বাজেটে একথা উল্লেখ করা হয়।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে কর কর্তৃপক্ষের কাছে বাৎসরিক আয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হয়। বিভিন্ন ধরনের সনদ ও লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে টিআইএন জমা দেওয়া বিধান থাকলেও, এখন থেকে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণও জমা দিতে হবে।
প্রমাণ হিসেবে রিটার্নের প্রাপ্তি রশিদ হতে পারে যেখানে করদাতার নাম এবং টিআইএন সম্বলিত একটি সনদ বা ডেপুটি কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে পাওয়া কোনো সনদ।
যেসব ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নের প্রমাণ
১. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি ঋণের আবেদন করতে; ২. কোনো কোম্পানির পরিচালক কিংবা স্পনসর শেয়ারহোল্ডার হতে; ৩. আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ পেতে; ৪. সিটি কর্পোরেশন বা পৌর এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়ন করতে; ৫. সমবায় সমিতির নিবন্ধন প্রাপ্তি; ৬. বীমা বা সার্ভেয়ার হিসেবে তালিকাভুক্তি বা লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন করতে; ৭. সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদরের পৌর এলাকা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি, রেজিস্ট্রেশন, দলিল হস্তান্তর, বায়না বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তিমূল্য ১০ লাখ টাকার বেশি হলে; ৮. ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিতে হলে; ৯. চিকিৎসক, ডেন্টিস্ট, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, খরচ ও ব্যবস্থাপনা হিসাবরক্ষক, প্রকৌশলী, স্থপতি বা সার্ভেয়ার বা যে কোনো পেশাদার সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তিতে আয়কর রিটার্নের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
এছাড়া, ১০. মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইনের অধীনে বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্তি; ১১. কোনো ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তি; ১২. ড্রাগ লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নে; ১৩. আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পের জন্য গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তি; ১৪. ভাড়ায় চালিত লঞ্চ, স্টিমার, মাছ ধরা জলযান, ট্রলার, কার্গো, কোস্টার এবং বার্জের জন্য সার্ভে সার্টিফিকেট প্রাপ্তি; ১৫. জেলা প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইট তৈরির অনুমতি পেতে; ১৬. সিটি করপোরেশন বা জেলা সদর পৌরসভায় সন্তান বা পোষ্যকে আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রমের ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে বা জাতীয় পাঠ্যক্রমের অধীনে ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি করতে আয়কর রিটার্নের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
আবার, ১৭. সিটি করপোরেশন বা সেনানিবাস এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে; ১৮. কোনো কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বা এজেন্টশিপ পেতে; ১৯. অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে; ২০. আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খুলতে; ২১. ৫ লাখ টাকার বেশি পোস্টাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে; ২২. ১০ লাখ টাকার বেশি ক্রেডিট ব্যালেন্সসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে; ২৩. ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে; ২৪. পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে; ২৫. মোটরগাড়ি, জমি, বাসস্থান বা যে কোনো স্থাবর সম্পদ সংশ্লিষ্ট অংশিদারত্ব ব্যবসা করতে; ২৬. কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নেওয়ার সময়; ২৭. সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা, কর্পোরেশন থেকে “বেতন” শিরোনামে মূল বেতন হিসেবে ১৬ হাজার বা তার বেশি টাকা পাওয়ার সময় আয়কর রিটার্নের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
২৮. মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপায়ে অর্থ স্থানান্তরে কোনো কমিশন, ফি জাতীয় অর্থ পেতে; ২৯. পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ বা নিরাপত্তা সেবা দিয়ে অর্থ গ্রহণ করতে; ৩০. সরকারের কাছ থেকে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) হিসেবে প্রতি মাসে ১৬ হাজার বা তার বেশি টাকা পেতে; ৩১. বীমা কোম্পানির এজেন্সি হিসেব নিবন্ধন বা পুনর্নবীকরণ করতে; ৩২. দুই বা তিন চাকা ছাড়া যে কোনো ধরনের মোটরগাড়ি নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়ন করতে; ৩৩. কোনো এনজিওকে বা মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অধীনে কোনো মাইক্রো ক্রেডিট সংস্থার কাছে বিদেশি অনুদান ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে; ৩৪. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে; ৩৫. কোনো ক্লাবের সদস্যপদ পেতে চাইলে; ৩৬. পণ্য সরবরাহ, চুক্তি সম্পাদন বা সেবা প্রদানের জন্য টেন্ডারের কাগজপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে; ৩৭. আমদানি বা রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ থেকে বিল অফ এন্ট্রি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে; ৩৮. ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে যে কাউকে আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র জমা দেওয়া থেকে অব্যাহতি দিতে পারে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।