জন্ম ঢাকায়। তবে চার বছর বয়সেই চলে যান ইউরোপের দেশ সুইডেনে। পড়াশোনা শেষে সেখানে করতেন শিক্ষকতা। এর পাশাপাশি ঝোঁক থেকে শিখে নেন মেকআপ শিল্পের কাজ। ঝুঁকে পড়েন গ্ল্যামার জগত, ফ্যাশন এবং সমসাময়িক ট্রেন্ডের দিকে। ২০১৭ সালে অল্প সময়ের জন্য আসেন ঢাকায়। এসে একরকম মুগ্ধতায় জড়িয়ে পড়েন। ভাবেন আরও কিছুদিন কাটিয়ে যাবেন এই দেশে। ফাঁকে কিছু করা যায় কি না ভাবতে থাকেন। সেই অনুযায়ী মেকআপের ওপর বেসিক থেকে অ্যাডভান্স লেভেলের ক্লাস নেন তিনি। পেয়ে যান ব্যাপক সাড়া। উল্লেখযোগ্য মেকআপ প্রশিক্ষকের অভাব ছিল বলেই এমন সাড়া পান নদী।
সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “নদী খন্দকার'স মেকওভার”। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই সুইডিশ শিক্ষক একইসঙ্গে মেকআপ আর্টিস্ট ও প্রশিক্ষক এবং দক্ষ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। পাশাপাশি ফেসবুক লাইভে উপস্থাপনা জন্যও ব্যাপকভাবে পরিচিত তিনি।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “২০১৯ সালে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে চলে আসেন নদী। গড়ে তোলেন তার ব্রাইডাল ও পার্টি মেকওভার প্রতিষ্ঠান নদী খন্দকার'স মেকওভার। তার দক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম এবং ব্যক্তিত্বের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় অর্জন করেন।”
“ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্র্যান্ড রিভিউ এবং প্রচারের জন্য অফারও আসতে থাকে। পাশাপাশি নদীর উপস্থাপনা বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়।”
“এমনকি করোনাকালেও তার কর্মনিষ্ঠা এবং কাজের প্রতি ভালোবাসার কারণে অনেক ব্র্যান্ড তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয়।”
সুইডেনে স্কুলে শিক্ষকতা থেকে ঢাকায় একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, “কাজের প্রতি আবেগ ও দৃঢ় সংকল্প যেকোনো মানুষের জীবনে স্থিতিশীলতা ও সফলতা নিয়ে আসতে পারে।”
“তার স্বপ্ন, শিগগিরই তিনি ঢাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিউটি স্কুল এবং বিউটি সেলুন প্রতিষ্ঠা করবেন। সেই সঙ্গে সমাজের তরুণীদের কাছে তিনি এই বার্তা পৌঁছে দিতে চান, আত্মবিশ্বাস, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।”