ভর্তুকি ও ঋণের সুদ পরিশোধ করতে চলতি বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৩.৫% বাড়িয়ে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট প্রণয়নের প্রাথমিক প্রাক্কলন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভর্তুকি কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর শর্তানুসারে, দফায় দফায় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরও চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ ৩৫% বরাদ্দ বাড়াতে হতে পারে।
অর্থমন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ আছে ৮১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা; ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে তা এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। অবশ্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে কৃষি, বিদ্যুৎ ও খাদ্য সহায়তা বাবদ ভর্তুকিতে বাড়তি ১৬ হাজার ৮১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে অর্থ বিভাগ।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে আগামী অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ (চলতি অর্থবছরের তুলনায়) ২৭% বৃদ্ধির প্রাক্কলন করেছে মন্ত্রণালয়। এই খাতে ১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হতে পারে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা ছিল ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা।
সুদ ও ভর্তুকিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ বেশি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। চলতি বাজেটের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ মাত্র ৬% বাড়িয়ে আগামী বাজেটে ২ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করছে অর্থ বিভাগ। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের সুদ পরিশোধে ৭৯ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। নতুন অর্থবছর এটি বেড়ে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছিলেন, “আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি সহনীয় মাত্রায় রাখা, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ এবং সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস প্রভৃতি বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। বৈশ্বিক ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়নের সুযোগ নেই, তবে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়টিকে সরকার প্রাধান্য দিচ্ছে।”