ইপিজেড শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ১০,১৭৫ টাকা

বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতাসহ ইপিজেড শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০,১৭৫ টাকা। আর সর্বোচ্চ মজুরি ১৭,০০০ টাকা। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মাসিক মূল বেতন ৫,২০০ টাকা এব সর্বোচ্চ ৯,৭৫০ টাকা। 

রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত ‘‘ইপিজেড নিম্নতম মজুরি বোর্ড’’ এ সুপারিশ করেছে। ৯ ডিসেম্বর এ সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

গত ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানকে চেয়ারম্যান করে এ মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। কমিটিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার অনুশাসন দেওয়া হয়। সুপারিশে সবার ক্ষেত্রে মূল বেতনের ৫০% বাড়িভাড়া ও ২,৩৭৫ টাকা চিকিৎসাভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সুপারিশে ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত গার্মেন্টস/গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, জুতা/ জুতার এক্সেসরিজ, চামড়াজাত পণ্য, সেবা প্রদানকারী, তাঁবু ও তাঁবু-এক্সেসরিজ, প্লাস্টিক পণ্য, খেলনা, ক্যাপ অ্যান্ড হ্যাটস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৫,২০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১০,১৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া আন-স্কিলড শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৭,২৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৩,২৫০ টাকা; সেমি-স্কিল্ড শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৭,৮৬৭ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৪,১৭৫ টাকা; স্কিল্ড গ্রেড-২ শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৮,৩০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৪,৮২৫ টাকা; হাইস্কিল্ড শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৯,৭৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৭,০০০।

ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, সফ্টওয়্যার, লেন্স ও গ্লাস পণ্য, মেটাল ও মেটালকাস্টিং, অটোমোবাইল ও অটো পার্টস, বাই-সাইকেল, ভারি শিল্প, প্রসাধনী, নৌকা, গল্ফ শ্যাফট, ফিশিং ইক্যুইপমেন্টস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের ক্ষেত্রে শিক্ষনবিশে শ্রমিকের নূন্যতম মুল বেতন ৫,২০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১০,১৭৫ টাকা; জুনিয়র অপারেটর শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৭,৮৬৭ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৪,১৭৫ টাকা; অপারেটরের নূন্যতম মূল বেতন ৮,৩০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৪,৮২৫ টাকা; সিনিয়র অপারেটরের নূন্যতম মূল বেতন ৯,৭৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৭,০০০।

টেক্সটাইল,ক্যামিকেল, ডাইং, অয়েল অ্যান্ড রিফাইনারি/ কৃষি পণ্য/ আসবাবপত্র/ কাঠ ও বাঁশজাত পণ্য/ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৫,২০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১০,১৭৫ টাকা; আন-স্কিল শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৭,২৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৩,২৫০ টাকা; সেমি-স্কিল্ড শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৭,৮৬৭ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৪,১৭৫ টাকা; স্কিল্ড গ্রেড-২ শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৮,৩০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৪,৮২৫ টাকা; হাইস্কিল্ড শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৯,৭৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৭,০০০।

টেরি টাওয়েল, সোয়েটার, উইগস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের ক্ষেত্রে শিক্ষনবিশে শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৫,২০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১০,১৭৫ টাকা; ফুরণভিত্তিক শ্রমিকের নূন্যতম মূল বেতন ৭,২৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ও চিকিৎসাসহ সাকুল্য বেতন ১৩,২৫০ টাকা।

এ বেতন ভাতার বাইরে প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিকের জন্য খাদ্য অথবা খাদ্য ভাতা এবং পরিবহন সুবিধা অথবা যাতায়াত ভাতা শ্রমিকের মোট মজুরির অতিরিক্ত হবে। এক্ষেত্রে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা এসব সুবিধা অথবা ভাতাসমূহ পেয়ে আসছেন তা কোনোভাবেই কমানো যাবে না।

নিয়োগকর্তা বা মালিকপক্ষ ইচ্ছা করলে স্ব-উদ্যোগে বা এককভাবে বা যৌথ উদ্যোগে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী কোনও শ্রমিকদের অধিক হারে মজুরি প্রদান করতে পারবেন।

সার্বিক কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে শ্রমিকদের বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হার নির্ধারণ হবে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫০% শ্রমিকের বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হার হবে মূল মজুরির ন্যূনতম ১০%। অবশিষ্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার তাদের কাজের মানের ওপর ভিত্তি করে মূল মজুরির ন্যূনতম ৫-১০%  হবে। তবে কোনোক্রমেই তা ৫%-এর কম হবে। মজুরি বোর্ডের এ সুপারিশ ১ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে কার্যকর হবে বলে সুপারিশে উল্লেখ করা হয়।