মেয়াদের আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালেও পাওয়া যাবে বাড়তি মুনাফা

নির্ধারিত মুনাফার হার বাড়ানোর পাশাপাশি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন বা ভাঙালেও মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন মুনাফার হার কার্যকর হওয়ার পর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১০.১১% থেকে ১২.৪০%, ৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্রে ১১% থেকে ১২.৩০%, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১০.১১% থেকে ১২.৫৫%, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১০.১১% থেকে ১২.৫০% এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটে ১১% থেকে ১২.৩০%পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যাবে।

বর্তমানে কার্যকর থাকা হার অনুযায়ী, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করা হলে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ৮.৫৪% থেকে ১১.২৮%, ৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্রে ৯.০৬% থেকে ১১% শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৮.৮৭% থেকে ১১.৭৬%, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৮.৬৬% থেকে ১১.৫২% এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটে ৯.৩১% থেকে ১১.২৮% পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়ানোর সুপারিশ করে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) একটি সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে মেয়াদপূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র নগদায়নের মুনাফার হার বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের তৈরি এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অর্থ বিভাগের সুপারিশে নতুন মুনাফার হার ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী নতুন মুনাফার হার ১২.২৫% থেকে ১২.৫৫% পর্যন্ত হতে পারে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকেও ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের বাড়তি নতুন মুনাফা কার্যকর করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কোন সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কত হবে তা নির্ধারণ করে শিগগির অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হবে। যদি ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর হয়, তাহলে যারা ১ জানুয়ারি বা তার পরে সঞ্চয়পত্র কিনবেন তারা নতুন হারের মুনাফা পাবেন। আর ১ জানুয়ারির আগে যাদের সঞ্চয়পত্র কেনা আছে, তারা আগের হারেই পাবেন মুনাফা।

অর্থ বিভাগের সুপারিশে বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারী। দ্বিতীয় ধাপটি হলো ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওপরের বিনিয়োগকারী। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের ১৫ লাখ টাকা, ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি এই তিন ধাপ রয়েছে।