বিএসসি-ডিপ্লোমা বৈষম্য নিরসনে ৩ দফা দাবিতে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (প্রকৌশল অনুষদ), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রকৌশল অনুষদ) শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) কেন্দ্রীয় পাঠাগার প্রাঙ্গণ থেকে একটি মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা।
মিছিলটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে যায়। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, “একজন নার্সকে দিয়ে যেমন ডাক্তারের কাজ হয় না, তেমনি একজন ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন ও ইমপ্লিমেন্টেশন সম্ভব নয়। প্রকৌশলীদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। প্রকৌশলীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি আমরা সহানুভূতিশীল। তবে আন্দোলন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে। কোনো প্রকার অপশক্তি যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
আন্দোলনকারীদের পক্ষে এক শিক্ষার্থী তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে- ইঞ্জিনিয়ারিং নবম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামেও সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না, টেকনিক্যাল দশম গ্রেডে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে অর্থাৎ ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় ডিগ্রিধারীকে পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ ইঞ্জিনিয়ার পদবি ব্যবহার করতে পারবেনা, এই মর্মে আইন পাশ করে গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সমাবেশে যোগ দেন। তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে এবং প্রকৌশলীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের পক্ষে স্লোগান দেন।