চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাদ্দাদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কপথের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ বিবেচনায় করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট বিষয়গুলোর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা (মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ) ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া শনিবার বাকি ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে ভূগোল দ্বিতীয় পত্র ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আল ফিকহ প্রথম পত্র পরীক্ষা হওয়ার কথা আছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ দিন এইচএসসি বিএমটির মার্কেটিং নীতি ও প্রয়োগ ১ ও ২, ভোকেশনালের ট্রেড ১ ও ২ এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের শর্ট হ্যান্ড ১ ও ২ বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা।

চলতি বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রতিটি বিষয়ে তিন সেট করে প্রশ্ন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, “শনিবার থেকে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সব বিচেনায় দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষার্থীরা ট্রমার মধ্যে আছে। এ কারণে বাকি পরীক্ষাগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।”

বন্যা, ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে এবার চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পরীক্ষাও পেছানোর দাবি উঠেছিল।

এ দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক আটকে বিক্ষোভও চলে। এর মধ্যে একদল আন্দোলনকারী সংসদে এলাকায় প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিপেটার মুখেও পড়েন। 

সেদিন আন্দোলন থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। তবে সরকার চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া বাকি এলকায় পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।

এ সিদ্ধান্ত সামনে আসার দাবি আদায়ে বুধবার সচিবলায় অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষাভবনের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে শাহবাগ মোড়ে দুই ঘণ্টা অবরোধ করে ফিরে যায় তারা।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এ বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম,  কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান-এই পাঁচ জেলার ২৮৩টি কলেজের ৯৯,৬৮৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।