চুয়েটে আন্দোলনের দশম দিন: গান-কবিতায় প্রতিবাদ, ফটকে 'কমপ্লিট শাটডাউন'

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শুরু হওয়া আন্দোলন দশম দিনে গড়িয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে “কমপ্লিট শাটডাউন” পালন করেন।

আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত তারা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

দশম দিনে গান ও কবিতার মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে তারা “প্রতিবাদী কনসার্ট” নামে কর্মসূচির আয়োজন করেন। এর পাশাপাশি আয়োজন করা হয় আলোকচিত্র প্রদর্শনীর।

পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মৌমিতা দত্ত প্রিয়া বলেন, "সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে আজ দশম দিনের মতো আমাদের প্রতিবাদী কর্মসূচি চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রতিবাদী কনসার্ট ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে গত নয় দিনে আমাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনের নীরবতারও তীব্র সমালোচনা জানানো হচ্ছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।"

গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনে নামেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চলছে তাদের “সর্বাত্মক শাটডাউন” কর্মসূচি। দাবি আদায়ে মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।