ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় বিভাগ চালুর অনুমোদন

নতুন করে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ছয়টি বিভাগ চালুর প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে অনুমোদনের ক্ষেত্রে আটটি শর্ত দিয়েছে কমিশন। 

শনিবার (৩ ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে সাতটি অনুষদের অধীনে ১৫টি বিভাগ চালুর প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট কমিটি ছয়টি বিভাগ চালুর সুপারিশ করে। 

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসানের স্বাক্ষর করা চিঠিতে ছয় বিভাগ চালুর প্রাথমিক অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

ইউজিসির অনুমোদন পাওয়া বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স, কৃষি বিজ্ঞান অনুষদের কৃষি, কলা ও মানবিক অনুষদের মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের হিসাববিজ্ঞান, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের পরিবেশ বিজ্ঞান এবং লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের জনস্বাস্থ্য।

কমিশনের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভাড়া করা ভবনের চুক্তিপত্র ও নকশা জমা দিতে হবে। তিনটি ভবনের একাডেমিক লে-আউট এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য পৌরসভার অনাপত্তিপত্রও দিতে হবে। একই সঙ্গে ভবনগুলোকে দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করে কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। 

শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কোর্সের কারিকুলাম, প্রয়োজনীয় গবেষণাগার, লাইব্রেরি ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছে ইউজিসি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অধিগ্রহণ করা ৮০ একর নিষ্কণ্টক জমির প্রামাণিক দলিলও কমিশনে জমা দিতে হবে। 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসরাফিল বলেন, ‘‘ছয়টি বিভাগের প্রাথমিক অনুমোদন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিকে এগিয়ে নেবে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’’ 

তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁওয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহৃত হবে।’’ এ আয়োজনকে ঘিরে জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা করেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।