পহেলা বৈশাখ মানেই উৎসব, রঙ আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত মানুষ, মেলায় ঘুরে বেড়ানো, মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা আর নানা দেশীয় খাবারের স্বাদ সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন দিন। শৈশবের সেই গ্রামীণ মেলার স্মৃতি শহরের জীবনে কিছুটা ফিকে হলেও, রাজধানী ঢাকায় এখনো বৈশাখ ঘিরে নানা আয়োজন বসে, যা ফিরিয়ে আনে উৎসবের আমেজ।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বসেছে বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিনোদনের নানান আয়োজন। পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় স্থান।
বাংলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সপ্তাহব্যাপী “বৈশাখী মেলা ১৪৩৩” আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলায় দেশীয় হস্তশিল্পের বিশাল সমাহার রয়েছে। নকশিকাঁথা, মাটির তৈরি পণ্য, বাঁশ-বেতের কাজসহ নানা গৃহসজ্জার সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে এখানে।
অন্যদিকে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চলছে ‘এসএমই বৈশাখী মেলা’। ৩০০টিরও বেশি স্টল নিয়ে জমজমাট এই মেলায় রয়েছে দেশীয় পণ্য, খাবার এবং প্রতিদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি নাগরদোলা, বায়োস্কোপ ও নানা বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে “লাল বৈশাখী” আয়োজনও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। এখানে নাগরদোলা, মজার খেলাধুলা, ফটোবুথের পাশাপাশি কনসার্টে জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা রয়েছে।
এছাড়া হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় প্রিমিয়াম আয়োজনে থাকছে বৈশাখী খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদন। মিরপুরের দ্য রিভার এজ রেস্তোরাঁয় পরিবার নিয়ে শান্ত পরিবেশে উপভোগ করা যাবে চার দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা।
বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স বেইজক্যাম্প, আগারগাঁওতেও দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী মেলা। এখানে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, বাউল গান, মেহেদি উৎসবসহ নানা কার্যক্রম রয়েছে।
ভাটারার শেফস টেবিল কোর্টসাইডে “উৎসবে বৈশাখ” শীর্ষক আয়োজনে থাকছে পাপেট শো, বাউল গান, নাগরদোলা এবং কনসার্ট। গুলশানের আলোকিতেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে “অর্ক বৈশাখ ১৪৩৩”, যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খাবারের আয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে, পুরান ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। এখানে পাওয়া যাবে দেশীয় খাবার, খেলনা, মাটির সামগ্রী এবং পুরান ঢাকার নিজস্ব উৎসবমুখর পরিবেশ।
সব মিলিয়ে, পহেলা বৈশাখে ঢাকার প্রতিটি প্রান্ত যেন রঙিন উৎসবে ভরে উঠেছে। ঘরে বসে না থেকে প্রিয়জনদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়তে পারেন এই উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।