‘কিছু লোক শুধু মানুষ হত্যার জন্যই বিখ্যাত তা না, মৃত্যুতেও উল্লাস করার জন্য বিখ্যাত’

তরুণ ও অত্যন্ত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের বিনোদন অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর। তিনি মা-বাবা ও দুই ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাংলাদেশের বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তার দাদি।

কারিনা কায়সারের এই অকাল ও আকস্মিক প্রস্থানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে স্মৃতিচারণা করছেন এ দেশের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, সহকর্মী এবং লাখো ভক্ত। সবার স্মৃতিতেই বারবার ভেসে উঠছে তার হাসিখুশি ব্যক্তিত্ব, প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অকৃত্রিম মানসিকতার কথা। অসুস্থ হওয়ার আগপর্যন্তও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।

তরুণ এই অভিনেত্রীকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন খ্যাতনামা নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার পরিচালিত ৩৬-২৪-৩৬ নামক প্রোডাকশনে কাজ করেছিলেন কারিনা। স্মৃতিচারণা করে ফারুকী তার দীর্ঘ স্ট্যাটাসে লিখেছেন যে, যখনই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ডাক আসছিল, কারিনা নির্দ্বিধায় দাঁড়িয়েছিলেন। পরিশেষে তিনি কারিনার আত্মার মাগফিরাত ও বেহেশত কামনা করেন।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে ফারুকী লেখেন, ‘‘এই পোস্টে যদি হাহা দেখো, জানবা কিছু লোক শুধু মানুষ হত্যার জন্যই বিখ্যাত তা না, মৃত্যুতেও উল্লাস করার জন্য বিখ্যাত। ইউ নো দেম, বাংলাদেশ নোজ দেম। রেস্ট ইন পিস, মাই সিস্টার!’’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত তীব্র জটিলতার কারণে কারিনা কায়সারের লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই তিনি জীবনের শেষ লড়াইয়ে হেরে যান।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কারিনা কায়সার অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আলোচিত ওয়েব সিরিজ ইন্টার্নশিপ এবং ৩৬-২৪-৩৬। অত্যন্ত প্রতিভাবান এই বহুমাত্রিক শিল্পীর অকাল চলে যাওয়া দেশের বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।