থাইল্যান্ডে নাটকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। পাহাড় থেকে স্কুটিতে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান তিনি। সে সময় স্কুটি চালাচ্ছিলেন চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনি। দুর্ঘটনায় দুজনই আহত হয়ে বর্তমানে থাইল্যান্ডের পাতায়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি দৃশ্য ধারণের জন্য খায়রুল বাসার ও তার শুটিং টিম থাইল্যান্ডের কোলান দ্বীপের একটি পাহাড়ে গিয়েছিলেন। শুটিং শেষ করে পাহাড় থেকে নামার সময়ই ঘটে বিপত্তি।
হাসপাতাল থেকে গণমাধ্যমকে দুর্ঘটনার বিবরণ দেন খায়রুল বাসার। তিনি জানান, কোলান দ্বীপে পাহাড়ের ওপর শুটিং নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছিল, কিন্তু নামার পথে হঠাৎ স্কুটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তারা এবং সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যান।
আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় প্রথমে দিশেহারা হয়ে পড়েন তারা। তখন শুটিং টিমের বাকি সদস্যরা কিছুটা দূরে অবস্থান করছিলেন। খবর পাওয়ামাত্র তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে খায়রুল বাসার ও মেহেদী রনিকে উদ্ধার করেন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনায় খায়রুল বাসারের বুকে ও হাঁটুতে আঘাত লেগেছে, হাঁটতেও তার কষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাতায়ার একটি হাসপাতালে।
নিজের অবস্থা সম্পর্কে বাসার বলেন, “বুকে ও হাঁটুতে আঘাতের কারণে হাঁটাচলা করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এ কারণে চলমান শুটিং বাতিল করতে হয়েছে, কেননা এই শারীরিক অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।“
তবে খায়রুল বাসারের তুলনায় চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনি বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা। রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজনেরই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। বাসার জানান, এক্স-রে করানো হবে এবং এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী ২-৩ দিন শুটিংয়ে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, একসঙ্গে একাধিক নাটকের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন খায়রুল বাসার। ঈদের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে বিদেশে গিয়ে শুটিংয়ে ফিরেছিলেন তিনি। তবে থাইল্যান্ডে চলমান নাটকগুলোর নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নাটকগুলো পরিচালনা করছেন মীর আরমান হোসেন, আর এতে খায়রুল বাসারের সঙ্গে অভিনয় করছেন সাদনিমা বিনতে নোমানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।