সপ্তাহখানেক ধরেই চলচ্চিত্র অভিনেতা জায়েদ খান ও ওমর সানীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরগরম ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ঢালিউডপাড়া। ওমর সানীর স্ত্রী চিত্রনায়িকা মৌসুমী জায়েদ খানের পক্ষ নিলে এবং দেড় মাস ধরে স্বামীর সঙ্গে আলাদা থাকার কথা সামনে আনলে তাদের ২৭ বছরের সংসার ভেঙে যাওয়ার গুঞ্জন ওঠে।
তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, জনপ্রিয় এ ঢালিউড জুটির বিচ্ছেদ বিষয়ক গুজবের গুমোট হাওয়া কেটে গেছে। আর সেই গুঞ্জনে পানি ঢেলেছেন ওমর সানী নিজেই। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি আপলোড করেন ওমর সানী। এতে দেখা যায়, এক টেবিলে মুখোমুখি বসে খাবার খাচ্ছেন সানী-মৌসুমী। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য।
ছবির ক্যাপশনে ওমর সানী লেখেন, “সবাই ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন আমাদের জন্য।”
ওমর সানীর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে আপলোড করা এ ছবি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। মান-অভিমান ভুলে ২৭ বছরের বিবাহবন্ধন আবারও অটুট হওয়ায় ভক্তরা তাদের অভিনন্দন জানান।
যদিও এ বিষয়ে ওমর সানী বা মৌসুমী কেউই এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি।
গত ১০ জুন ঢাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে অভিনেতা ডিপজলের ছেলের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে চড় মারেন অভিনেতা ওমর সানী। এ সময় জায়েদ খানও পিস্তল বের করে ওমর সানীকে গুলি করার হুমকি দেন বলেও জানা যায়।
ওমর সানীর দাবি, তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে বিরক্ত করায় তিনি জায়েদ খানকে চড় মেরেছেন। তবে জায়েদ খান প্রথম থেকেই চড় দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করে আসছিলেন। এমনকি, তার সঙ্গে পিস্তল ছিল না বলেও জানান এ অভিনেতা।
পরবর্তীতে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী। অভিযোগে তিনি জায়েদ খানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী এবং চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে হয়রানি এবং বিরক্ত করার অভিযোগ আনেন। এমনকি, জায়েদ খান তাদের সুখের সংসার ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
তবে তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা মৌসুমীর দাবি করেন, এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং জায়েদ খান তাকে যথেষ্ট সম্মান করেন এবং তিনি একজন ভালো ছেলে।
পরবর্তীতে মৌসুমী-ওমর সানী দম্পতির ছেলেও বাবার পক্ষে দাঁড়ান।
ওমর সানীর অভিযোগের চিঠি হাতে পাওয়ার পর চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, শিল্পী সমিতির সভায় ওমর সানীর অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সভায় বিষয়টির সমাধান হবে বলে জানালেও তা নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি ইলিয়াস কাঞ্চন।