মুক্তির পর সাড়া ফেলেছে নুহাশের ‘ফরেনারস অনলি’

সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদন জগতে বাংলাদেশের কনটেন্টকে আন্তর্জাতিক পরিসরে যেসব তরুণ নির্মাতারা গর্বের সঙ্গে তুলে ধরছেন তাদের মধ্যে নুহাশ হুমায়ূন অন্যতম। নাটক “হোটেল আলবাট্রোস”, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “৭০০ টাকা”, ওয়েব সিরিজ “পেট কাটা ষ” এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “মশারি” দিয়ে নিজের নির্মাণের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি।

এবার নুহাশ হুমায়ূনের সাফল্যের তালিকায় নতুন পালক হিসেবে যুক্ত হলো “ফরেনার্স অনলি”। যুক্তরাষ্ট্রের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম “হুলু”-এর  অ্যানথোলজি সিরিজ “বাইট সাইজ হ্যালোইন”–এর তৃতীয় মৌসুমের একটি পর্ব হিসেবে “ফরেনার্স অনলি” নামের কনটেন্টটি নির্মাণ করেছেন নুহাশ। পরিচালনার পাশাপাশি ফরেনারস অনলির চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম “হুলু”র প্রথম বাংলাদেশি কনটেন্ট হিসেবে মুক্তি পায় নুহাশ হুমায়ূনের ইংরেজি ভাষার স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা “ফরেনার্স অনলি”। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্মাতাদের বানানো ২০টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের পর্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে সিরিজটি। এর মধ্যে ১৫ মিনিট ৩ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের “ফরেনার্স অনলি” মুক্তির পর থেকেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

যদিও বাংলাদেশে হুলুর কার্যক্রম না থাকায় দেশ থেকে  “ফরেনার্স অনলি” দেখার সুযোগ নেই। তবে ইউটিউবে আনঅফিসিয়াল কয়েকটি চ্যানেলে কন্টেন্টটি দেখা যাচ্ছে।

“ফরেনার্স অনলি”-এর গল্প নিয়ে নুহাশ হুমায়ূন বলেন, “খেয়াল করে দেখবেন যে শুধুমাত্র বিদেশিদের থাকার জন্য ভাড়া দিতে গুলশান-বনানী এলাকায় কিছু বাসা রয়েছে। এসব বাসা কখনোই দেশের লোকদের কাছে ভাড়া দেয়া হয় না। এ বিষয় নিয়েই আমি কনটেন্টটি নির্মাণ করেছি।”

বাংলাদেশের একজন ট্যানারি শ্রমিকের নতুন বাসা ভাড়া নেয়ার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে “ফরেনার্স অনলি”। এতে দেখানো হয়েছে, একজন ট্যানারি শ্রমিক বাসা ভাড়া নিতে চাইলেও তাকে দেওয়া হয় না। কারণ তিনি যে বাড়ি নিতে চান, সেই বাড়ির মালিক শুধুমাত্র বিদেশিদের বাসা ভাড়া দিতে চান। তার যুক্তি, স্থানীয়রা ঠিকভাবে বাড়ি ভাড়া দেয় না, পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। 

এই নির্মাতা আরও বলেন, “আমি হুলুতে গল্পটা পিচ করার পর তারা এটা নিয়ে উৎসাহী ছিল। আর পরদিনই আমি গল্পটি নিয়ে কাজ করার অনুমতি পেয়ে যাই।”

“ফরেনার্স অনলি”তে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরেশ যাকের, মোস্তফা মনওয়ার, রেবেকা নুসরাত আলী, সুভাশীষ ভৌমিক, কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন, সৈয়দ তসলিমা হোসেন নদী ও জেমি প্যাটিনসন। এর মধ্যে ইরেশ যাকেরকে বাড়িওয়ালার চরিত্রে এবং মোস্তফা মনওয়ারকে ট্যানারি শ্রমিক থেকে ম্যানেজার হওয়া ব্যক্তির ভূমিকায় দেখা গিয়েছে।

“হুলু”-এর  অ্যানথোলজি সিরিজ “বাইট সাইজ হ্যালোইন”–এ নুহাশের আরও গল্প আসতে যাচ্ছে নাকি জানতে চাইলে নুহাশ বলেন, “না, এবার আর গল্প আসছে না। এ সিজনে আমার একটাই গল্প ছিল।”

ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক কাজ আসতে যাচ্ছে কি-না জিজ্ঞেস করলে নুহাশ বলেন, “কাজ সামনে আসবে, তবে এ নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না।”