মাসখানেক আগে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বলিউডের দুই মহাতারকা অমিতাভ বচ্চন আর শাহরুখ খানের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করেছিলেন বাংলাদেশের গুণী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সেখানে বিগ বি খ্যাত অমিতাভের সঙ্গে কুশলাদিও বিনিময় করেছিলেন চঞ্চল। তবে দুজনের সাক্ষাৎ যে শুধুই আলাপ-পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তার প্রমাণ দিলেন অমিতাভ নিজেই।
টলিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির পরিচালনায় কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের জীবন ও কর্ম অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে “পদাতিক” নামের সিনেমা। সেখানে মৃণাল সেনের ভূমিকায় অভিনয় করবেন চঞ্চল চৌধুরী। বুধবার (১১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেই সিনেমার পোস্টার শেয়ার করেছেন অমিতাভ বচ্চন। সেই সঙ্গে চঞ্চল ও সৃজিতের নাম উল্লেখ করে শুভকামনাও জানিয়েছেন বলিউডের এই মেগাস্টার।
তবে সদ্য প্রয়াত বাবার প্রস্থান আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে চঞ্চল চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
২০২৩ সালে জাঁকজমকভাবে মৃণাল সেনের জন্মশত বর্ষ উদযাপন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে “পদাতিক”। এ সিনেমায় উঠে আসবে মৃণাল সেনের ব্যক্তিগত ও চলচ্চিত্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো। ছবিটিতে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয় করবেন টলিউডের মনামী ঘোষ, সম্রাট চক্রবর্তী প্রমুখ। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে শুরু হবে এ ছবির শুটিং।
“পদাতিক”কে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ হিসেবে দেখছেন সৃজিত মুখার্জি।
এ বিষয়ে তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, “বায়োপিক বা ওই ধাঁচের ছবি আগেও করেছি। যেমন- ‘শাবাশ মিঠু' বা ‘এক যে ছিলো রাজা'। কিন্তু নিঃসন্দেহে এটা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং!”
মৃণাল সেনের চরিত্রটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন কাজের জন্য নিজের দেশ-শহরের কারও ওপর নয়, বরং চঞ্চলের ওপর আস্থা রাখলেন সৃজিত মুখার্জি। এর পেছনেও বড় কারণ আছে।
তিনি বলেন, “প্রথমত দুজনের মুখের মিল আছে। সেটা কাকতালীয়। কিন্তু মৃণালবাবুর মতোই চঞ্চলের চোখের দৃষ্টি অত্যন্ত ধারালো এবং সজাগ। এছাড়াও মৃণালবাবুর রাজনীতি চেতনা, তার যাপন এবং দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও চঞ্চলের প্রচুর মিল। সেটা কাকতালীয় হতে পারে। কিন্তু মিলটা আছে।”
১৯২৩ সালের ১৪ মে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মৃণাল সেন। পড়াশোনার জন্য কলকাতায় গিয়ে সেখানেই স্থায়ী হন। ১৯৫৫ সালে মুক্তি পায় তার নির্মিত প্রথম সিনেমা “রাত-ভোর”। যদিও সেটি খুব একটা সাফল্য পায়নি।
তবে পরবর্তীতে “নীল আকাশের নিচে”, “বাইশে শ্রাবণ”, “ভুবন সোম”, “ইন্টারভিউ”, “কলকাতা ৭১”, “পদাতিক”, “মৃগয়া”র মতো কালজয়ী সব সিনেমা নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রে সর্বকালের সেরা নির্মাতাদের একজন তিনি।