মোশাররফ-চঞ্চল-নিশো-মেহজাবীনদের কার কত পারিশ্রমিক?

একটা সময় ছিল শুধু ভালোবেসেই অভিনয়শিল্পীরা কাজ করে গেছেন। সেখানে অর্থ ছিল গৌণ। পারিশ্রমিক নিয়ে সম্মান ও সন্তুষ্টি দুই থাকত। মুক্তিযুদ্ধ–পরবর্তী অভিনয়শিল্পীদের তিনটি গ্রেডে পারিশ্রমিক নির্ধারিত হতো। চাইলেই কেউ সি গ্রেড থেকে এ গ্রেডে যেতে পারতেন না। অভিনয়শিল্পী হিসেবে সি ক্যাটাগরি দিয়ে শুরু হতো পারিশ্রমিক। এর মধ্যে বিশেষ অভিনয়দক্ষতা ও অভিনয়ের অভিজ্ঞতা দিয়ে কেউ কেউ জায়গা পেতেন স্পেশাল ও এক্সক্লুসিভ ক্যাটাগরিতে।

বেসরকারি টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হওয়ার পর তারকারা নিজেরাই নিজেদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতেন। এই সময় নাটকের বাজেট, সংখ্যা ও তারকাদের কাজের পরিসর বাড়তে থাকে। ২০০০ সাল–পরবর্তী সময়ে নাটক ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। নতুন নতুন চ্যানেল বৈচিত্র্যপূর্ণ নাটক নিয়ে হাজির হতে থাকে। তরুণেরা অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে শুরু করেন। এই সময়ে হু হু করে বাড়তে থাকে বেসরকারি চ্যানেলের সংখ্যা। নাটকে যোগ হয় টিআরপি সিস্টেম। তখন জানা যেত কোন অভিনয়শিল্পীর নাটক বেশি দেখছেন দর্শক। 

করোনাকালীন শুটিংয়ে নিরাপত্তার জন্য কিছু তারকা পারিশ্রমিক বাড়ানোর অনুরোধ করেন। পরে তাদের দেখাদেখি অনেক তারকাই তাদের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করে প্রযোজক ও সংশ্লিষ্ট নেতারা।

তবে, অসন্তোষের জবাবে তারকারা বলছেন, দর্শকদের ভালো কাজ উপহার দিতে আগের চেয়ে কাজে অনেক বেশি সময় দিচ্ছেন। কমিয়ে দিয়েছেন কাজের সংখ্যা। যে কারণে আগের চেয়ে পারিশ্রমিক বাড়িয়েছেন।

কেউ কেউ বলছেন, যার যেমন চাহিদা ও নাটকের ভিউ, তার তেমন পারিশ্রমিক। সম্প্রতি পরিচালক ও প্রযোজকদের দেওয়া তথ্যানুয়ায়ী এক প্রতিবেদনে কয়েকজন তারকার পারিশ্রমিকের তথ্য জানিয়েছে দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো।

প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, মোশাররফ করিম নাটকের জন্য পারিশ্রমিক নেন দুই লাখ টাকার বেশি। নতুন বছরে তিনি পারিশ্রমিক বাড়িয়েছেন। আগে দেড় লাখ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিতেন। 

অভিনেতা আফরান নিশো নাটকের জন্য তিন লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন। তিনি সময় নিয়ে শুটিং করেন। বর্তমানে তিনি নাটক কম করছেন। ওটিটিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এই অভিনেতা।

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী নাটকের জন্য ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নেন তিনি। সম্প্রতি তার নাটক ছাড়া নিয়ে আলাপ তৈরি হয়েছিল।

সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তিনি প্রতি নাটকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। ইউটিউবে তার নাটকের চাহিদা রয়েছে বলে জানান প্রযোজকেরা।

তবে জনপ্রিয়তা, চাহিদা থাকার পরেও নাটকের পারিশ্রমিক বাড়াননি চঞ্চল চৌধুরী। তিনি প্রতিটি নাটকের জন্য ১ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেন। দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয় এই অভিনেতা এখন ওটিটিতেই বেশি ব্যস্ত।

করোনা পরবর্তী টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র তারকাদের পারিশ্রমিক বাড়ার বিষয়টি নিয়ে সেসময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন টেলিভিশন অ্যান্ড ডিজিটাল প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সাজু মুনতাসির।

তিনি বলেছিলেন, “এখনো প্রতিদিন নাটকের বাজেট কমছে। সেখানে কিছু মানুষের কারণে তারকাদের বাজেট বাড়ায় আমরা হতাশ। এটা নাটকের জন্য আরও অশুভ সংকেত।”

অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম সেসময় বলেছিলেন, “চাহিদা থাকলে পারিশ্রমিক আপনাআপনি বেড়ে যায়, কিন্তু নিজে নির্ধারণ না করাটাই ভালো। কোনো শিল্পী যদি বছরে বছরে পারিশ্রমিক বাড়ান, তা অত্যন্ত দুঃখজনক খবর। অযাচিতভাবে নিজেদের বাজেট বাড়ানোকে আমি নিন্দা জানাই।”

ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু বলেছিলেন, “ভিউকে বাহানা করে কিছু শিল্পী অযৌক্তিকভাবে তাদের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে নাটকের সিংহভাগ টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। বাকি টাকা দিয়ে নাটক হবে কি-না তা তারা ভাবছেন না।”