অর্থ প্রতারণার মামলায় ভারতে গত এক বছর ধরে প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন বলিউড তারকা জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ ও নোরা ফাতেহি। সুকেশ চন্দ্রশেখরের মামলায় নোরার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন জ্যাকুলিন; এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন নোরা। এমনকি তিনি জ্যাকুলিনের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে দিল্লির এক আদালতে মামলাও করেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে সেই মানহানির মামলা করা হয়। সোমবার (৩১ জুলাই) দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে নিজের জবানবন্দি দিতে হাজির হন নোরা। শুনানিতে তিনি বলেন, “তাকে জ্যাকুলিন ও কিছু সংবাদমাধ্যম বলির পাঁঠা বানিয়েছে।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে হওয়া ২০০ কোটি রুপি অর্থ প্রতারণার মামলায় গত বছরের ১৭ আগস্ট চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। সে সময় মামলার তদন্ত বিভাগ দাবি করে, সুকেশের কাছ থেকে ৫ কোটি ৭১ লাখ রুপির উপহার নিয়েছেন জ্যাকুলিন।
অভিযোগ ওঠার পর জ্যাকুলিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন দেশটির আদালত। পরে এ বিষয়ে সুকেশের জ্যাকুলিন কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। তখন তিনি জানান, তিনি ছাড়াও আরও অনেক তারকা সুকেশের কাছ থেকে উপহার নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নোরা ফাতেহি একজন।
বিতর্কে নাম জড়ানোর পর একাধিকবার জিজ্ঞাসার মুখোমুখি হন নোরা। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি ভারতীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
এ অবস্থায় সুনাম ক্ষুণ্ন ও ক্যারিয়ার ধ্বংস চেষ্টার অভিযোগ করে গত বছরের ডিসেম্বরে মানহানির মামলা করেন নোরা ফাতেহি।
অভিযোগে উল্লেখ করেন, “মানহানির এই মামলাটি জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ এবং কয়েকটি টেলিভিশন ও প্রকাশনার বিরুদ্ধে; যারা মিথ্যে অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষের কাছে আমাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন।”
সোমবার সেই মামলার শুনানিতে নোরা আবারও দাবি করেন, “সেই ঘটনাটির জন্য কাজের নানা সুযোগ তার হাতছাড়া হয়ে গেছে। সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং মানসিকভাবেও তিনি ভেঙে পড়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এসব ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। কারণ এই দেশে (ভারত) আমি বহিরাগত এবং একা ছিলাম। আমার যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ চাই।”