রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে শুটিং কার্যক্রম বন্ধে হাউস মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে উত্তরা সেক্টর-৪ কল্যাণ সমিতি। রাস্তায় জনসমাগম, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত রবিবার (২০ জুলাই) হাউস মালিকদের এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে উত্তরা সেক্টর-৪ কল্যাণ সমিতির।
সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, “শুটিংয়ের কারণে রাস্তায় জনসমাগম, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”
চিঠিতে আরও বলা হয়, “আপনার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে শুটিং হাউজ পরিচালনা করা সম্পূর্ণ আবাসিক নীতিমালার পরিপন্থী। ফলে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং সেক্টরবাসীর ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সেক্টরবাসীর ক্রমবর্ধমান অভিযোগ ও সবার নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কথা বিবেচনা করে আপনাকে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, অনতিবিলম্বে এই শুটিং কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন এবং শুটিং হাউজ হিসেবে ভাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। সেক্টরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আপনার দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।”
সব শেষে চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা সবাই জানি উত্তরা চার নম্বর সেক্টর একটি আদর্শ, পরিবেশ বান্ধব ও শান্তিপূর্ণ আবাসিক এলাকা হিসেবে পুরো উত্তরার ভেতর পরিচিতি লাভ করেছে। অতএব এই সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য আপনার আন্তরিক সহযোগিতা একান্তকাম্য।”
উত্তরা সেক্টর ৪ এলাকায় তিনটি শুটিং হাউস; লাবণী-৪, লাবণী-৫ ও আপনঘর-২।
এই বিষয়ে অভিনেতা ও ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “এভাবে হঠাৎ করে একটি চিঠির মাধ্যমে শুটিং বন্ধ করার নির্দেশনা কোনোভাবেই উচিত নয়। একটা হাউসে অনেক ধারাবাহিকের শুটিং চলে, অনেক কন্টিনিউটি আছে। তাই হঠাৎ করে বললেই হয় না, একটা সময় দিয়ে বন্ধের চিঠি দিতে পারত।”
তিনি বলেন, “আমরা ডিরেক্টর গিল্ড এর প্রতিবাদ জানিয়েছি, আজকেই আমরা চিঠি দেব। হাউসের মালিকদের জানিয়েছি, আপনাদের পাশে আমরা আছি।”