জ্বর মানেই যে ডেঙ্গু, তা নয়। তবে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জ্বর হলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ, গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে তা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। শুধু হবু মায়েরই নয়, গর্ভস্থ শিশুর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে সচেতন হওয়া খুব জরুরি।
ডেঙ্গুর লক্ষণ চেনার উপায়
ভারতের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণাংশু তালুকদারের মতে, ডেঙ্গু মশা কামড়ালে হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এর সঙ্গে থাকে ভয়ানক মাথাব্যথা, হাত-পায়ে ব্যথা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, খাবারের প্রতি অনীহা, বমি ও প্রস্রাব কমে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে গা ও পিঠে ছোট ছোট র্যাশ দেখা দেয়। গুরুতর হলে দাঁতের মাড়ি বা শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তপাত শুরু হয়।
জ্বর হলে করণীয়
- অন্তঃসত্ত্বাদের জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
- প্রয়োজনে NS1 অ্যান্টিজেন টেস্ট,"IgM" ও "IgG" অ্যান্টিবডি টেস্ট করাতে হবে।
- জ্বরের সঙ্গে বমি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।
- ডিহাইড্রেশন রোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে হবে। স্যালাইন, স্যুপ, ফলের রস ও সাধারণ পানি অল্প অল্প করে খাওয়া উচিত।
কোন ওষুধ খাবেন, কোনটা নয়
- জ্বর কমাতে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।
- ব্লাড থিনার জ্বরের সময় বন্ধ রাখতে হবে।
- অন্য কোনো ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না।
বিশেষ সতর্কতা
- ডেঙ্গু প্রবণ এলাকায় অন্তঃসত্ত্বাদের সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।
- গা ঢাকা কাপড় পরিধান করা উচিত।
- শরীরে দুর্বলতা বেশি হলে বা ৪৮–৭২ ঘণ্টার মধ্যে জ্বর না কমলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা নিরাপদ।
কেন ডেঙ্গু ভয়ংকর
গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকে। এ কারণে ডেঙ্গু সংক্রমণ দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, ফ্লুইডের চাপজনিত সমস্যা এবং হৃদযন্ত্রে বিরূপ প্রভাব-সব মিলিয়ে মায়ের পাশাপাশি শিশুরও ঝুঁকি বাড়ে। তাই হবু মায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তেই সচেতন থাকতে হবে।