ডিজিটাল যুগে মানুষ ক্রমশ একা হয়ে পড়ছে, কখনও স্বেচ্ছায়, কখনও পরিস্থিতির চাপে। কিন্তু এই একাকিত্ব কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নয়, হৃদযন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি গবেষকেরা দেখিয়েছেন, দীর্ঘদিন একাকিত্বে ভুগলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একাকিত্বে ভুগলে শরীরে প্রদাহজনিত উপাদান, যেমন সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP), বেড়ে যায়। এর ফলে ধমনীর দেয়ালে প্লাক জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি একাকিত্ব থেকে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা উচ্চ রক্তচাপ ও ধমনীর ক্ষতির কারণ হয়।
অন্যদিকে, সামাজিক মেলামেশা ও সম্পর্ক অক্সিটোসিন হরমোন বাড়ায়, যা স্ট্রেস কমিয়ে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়। তাই একাকিত্বের অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ধীরে ধীরে শারীরিক ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।
তবে “একা থাকা” আর “একাকিত্ব” এক নয়। নিজের ইচ্ছায় একা থাকা উপভোগ্য হতে পারে, কিন্তু যখন তা সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় পরিণত হয়, তখনই সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।