ইগনোবেল, নোবেল পুরস্কারের স্যাটায়ার নাকি অন্যকিছু?

পায়ু দিয়েও শ্বাস নিতে পারে স্তন্যপায়ী প্রাণী! আর এ জন্য একদল জাপানি এবং মার্কিন গবেষকরা জিতে নিয়েছে ইগনোবেল পুরস্কার, ঠিক শুনেছেন, নোবেল নয় ইগনোবেল।

নিশ্চয়ই ভাবছেন, ইগনোবেল! এ আবার কোন পুরস্কার! জীবনেও তো নাম শুনিনি!

বিজ্ঞানের জটিল জটিল আবিষ্কারের কাজ যেমন বিজ্ঞানীরা করেন, তেমনি উদ্ভট উদ্ভট এসব প্রশ্নের উত্তর কিন্তু বিজ্ঞানীরাই বের করেন। তাইলে খালি জটিল সব আবিষ্কারের জন্যই নোবেল? আর বাকিদের বেলায় লবডঙ্কা, তা কীভাবে হয়?

তাইতো  হার্ভার্ডের এক স্যাটায়ার ম্যাগাজিন বছর বছর আয়োজন করে অদ্ভুত এক পুরস্কারের। হাস্যকর, উদ্ভট উদ্ভট আবিষ্কারের জন্য আজব ধরনের এই পুরস্কারের নাম তার ইগনোবেল! আসল নোবেল পুরস্কারকে ব্যঙ্গ করতেই এই ইগনোবেল বললেও কিন্তু ভুল হবে না।

যে গবেষণাগুলো মানুষকে হাসায়, কিন্তু আবার পরক্ষণে ভাবতে বাধ্য করে, ভয় পেলে নাকি গরু দুধ দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেয়? কফির কাপ হাতে নিয়ে হাঁটার সময় কাপ থেকে কফিটা উথলে পড়ে, এটাই বা কেন?  েএরকম আজব সব প্রশ্নের উত্তর যেসব বিজ্ঞানীরা বের করেন তারাই ইগনোবেলের দাবিদার।

বিজ্ঞানের দিক থেকে এসব আবিষ্কার কিন্তু কোনো অংশেই কম নয়। আর ছোট ছোট মজার মজার এসব আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে  প্রতিবছর হাস্যকর কিন্তু প্রয়োজনীয় এমন ১০টি ক্ষেত্রে এ পুরস্কার দেওয়া হয়! হাভার্ড ইউনিভার্সিটির স্যাটায়ার বিজ্ঞান ম্যাগাজিন ‘এননালস অব ইম্প্রোবাবল রিসার্চ’ এই ইগনোবেলের পুরো আয়োজনটি সত্যিকারের নোবেল দেওয়ার আগেই অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষের দিকেই দিয়ে ফেলা হয়!

শান্তি, রসায়ন, মনস্তত্ত্ব বা ওষুধ, অ্যানাটমিসহ আসল নোবেলের মতোই মোট ১০টি বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়া হয়!

চলুন জেনে আসি ইগনোবেল পাওয়া কয়েকটি উল্লেখযোগ্য যুগান্তকারী আবিষ্কার সম্পর্কে। তবে শুনে চোখ কপালে উঠলে কিন্তু কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়!

শুরুতেই যে বলেছিলাম, স্তন্যপায়ী প্রাণী পায়ুপথ দিয়েও শ্বাস নিতে পারে! এই আবিষ্কার করে ফিজিওলজিতে ইগনোবেল পেয়েছেন  জাপানি ও মার্কিন গবেষক দল!

নেদারল্যান্ডের বিজ্ঞানী অ্যানিটা এরল্যান্ড আর তার সহকর্মীরা মাথাটা বাঁ দিকে হেলিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন, আইফেল টাওয়ারটা এভাবে ‘ছোট’ দেখায়। তাতেই পেয়েছেন মনস্তত্ত্বে বিশেষ সম্মান।

মৃত ট্রাউট মাছের সাঁতারের ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করে ইগনোবেল পেয়ে গেলেন ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জেমস লিয়া!

সুইস, বেলজিয়ান ও জার্মান বিজ্ঞানীরা দেখালেন—যে ভুয়া ওষুধ রোগীকে কিছুটা ব্যথা দেয়, তা ব্যথাহীন ভালো ওষুধের চেয়ে বেশি কার্যকর, ব্যস পেয়ে গেলেন ইগনোবেল!

এই ইগনোবেল মানেই স্যাটায়ার তা কিন্তু নয়, এতে বেশ ভালো মানের অর্থও দেওয়া হয়। আর পরিমাণটাও নেহায়েৎ কম নয়। ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার, না মার্কিন ডলার নয়, জিম্বাবুয়ের মুদ্রায় দেওয়া হয় ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার, যার সমমূল্য প্রায় শূন্য দশমিক ৪ মার্কিন ডলার!