জ্বালানি হিসেবে তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার নির্ভরতা যখন বিশ্বজুড়ে কমছে, তখন ইউরেনিয়ামের অবিশ্বাস্য শক্তির ওপর ভর করে নতুন এক সোপানে পা রেখেছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত নিউক্লিয়ার ফুয়েলের সক্ষমতা সাধারণ জ্বালানির তুলনায় কয়েক হাজার গুণ বেশি। বিবিসি বাংলার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এর বিস্ময়কর তথ্য।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত মাত্র সাড়ে ৪ গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, সমপরিমাণ বিদ্যুৎ পেতে হলে প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেল পুড়াতে হবে। যেখানে সাধারণ একটি গাড়ির জ্বালানি ট্যাঙ্ক পূর্ণ করতে কয়েক লিটার ডিজেল লাগে, সেখানে সামান্য ওজনের এই ইউরেনিয়াম পেলেট দিচ্ছে অবিশ্বাস্য সক্ষমতা।
হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষুদ্র আকারের একটি পেলেট যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে তার জন্য কয়লা লাগবে ৪০০ কেজি এবং গ্যাস লাগবে ৩৬০ ঘনমিটার। অর্থাৎ মাত্র এক কেজি নিউক্লিয়ার জ্বালানির কর্মক্ষমতা ৬০ টন জ্বালানি তেল কিংবা ১০০ টন কয়লার সমান।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগের বিষয় তেজস্ক্রিয়তা হলেও নিউক্লিয়ার ফুয়েল তৈরি ও ব্যবহারে অবলম্বন করা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। পারমাণবিক জ্বালানি এমনভাবে তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবহন করা হয় যাতে এটি থেকে কোনোভাবেই তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য স্থাপিত নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরের বহু স্তরের নিরাপত্তার প্রথম ধাপই হলো এই ফুয়েল পেলেট। এটি একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়, যার ফলে তেজস্ক্রিয়তা পেলেটের ভেতরেই আবদ্ধ থাকে। নিরাপত্তার দ্বিতীয় ধাপে এই পেলেটটি জিরকোনিয়াম অ্যালয় দ্বারা তৈরি একটি শক্তিশালী আস্তরণে মোড়ানো থাকে। কোনো কারণে তেজস্ক্রিয়তা ফুয়েল পেলেট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও এই বিশেষ আস্তরণ ভেদ করা সম্ভব হয় না।
তেল-গ্যাসের মজুত যখন ফুরিয়ে আসছে, তখন বাংলাদেশের জন্য ইউরেনিয়ামের এই দীর্ঘমেয়াদী ও শক্তিশালী জ্বালানি এক নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।