মানুষের মতোই যন্ত্রণা পায় লবস্টার, প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা

সুস্বাদু খাবার হিসেবে লবস্টার বা গলদা চিংড়ির জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। তবে রান্নার আগে একে জীবন্ত সেদ্ধ করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নৈতিক বিতর্ক চলছে। এতদিন ধারণা করা হতো, এসব খোলসধারী প্রাণিদের স্নায়ুতন্ত্র উন্নত নয় বলে তারা মানুষের মতো কষ্ট পায় না। তবে বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই চিরন্তন ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। 

সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অফ গোথেনবার্গের গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, লবস্টার বা গলদা চিংড়ি কেবল ব্যথা অনুভবই করে না, বরং তাদের যন্ত্রণার গভীরতা মানুষের স্নায়বিক অনুভূতির মতোই প্রবল। 

ব্যথানাশক ওষুধের প্রভাব ও বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ  

বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের জন্য তৈরি প্রচলিত ব্যথানাশক ওষুধ লবস্টারের শরীরেও সমানভাবে কার্যকর। নরওয়েজিয়ান লবস্টারের ওপর চালানো এই পরীক্ষায় গবেষকরা অ্যাসপিরিন ও লিডোকেইন ব্যবহার করে অভূতপূর্ব ফলাফল পেয়েছেন।

গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণ অবস্থায় লবস্টারকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলে তারা তীব্র যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে ওঠে এবং পালানোর জন্য লেজ ঝাপটাতে থাকে। তবে বিস্ময়করভাবে, যেসব লবস্টারের শরীরে আগে থেকে ব্যথানাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল, তারা বৈদ্যুতিক শকের পর যন্ত্রণার কোনো লক্ষণ দেখায়নি। গবেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে তাদের এই ছটফটানি কেবল যান্ত্রিক কোনো প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি প্রকৃত যন্ত্রণারই বহিঃপ্রকাশ।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক এলেফথেরিওস ক্যাসিউরাস ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে বলেন, “যন্ত্রণাদায়ক প্রক্রিয়ার সময় ব্যথানাশকের প্রতি সাড়া দেয়ার অর্থ হলো, তারা যা অনুভব করে তা কেবল সাধারণ প্রতিক্রিয়ার (রিফ্লেক্স) চেয়েও বেশি কিছু।”  

নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আইনি প্রেক্ষাপট

গবেষণার আরেক লেখক অধ্যাপক লিন স্নেডন জানান, মানুষের ওষুধ লবস্টারের স্নায়ুকে শান্ত করার অর্থ হলো তাদের ব্যথাবোধ আমাদের মতোই প্রখর। তিনি বলেন, “খাদ্য বা বিজ্ঞান যেকোনো প্রয়োজনে এদের ব্যবহার করার সময় আমাদের নৈতিকভাবে যত্নশীল হতে হবে। গরু বা মুরগির মতো লবস্টারের ক্ষেত্রেও মানবিক হত্যা বা যন্ত্রণাহীন পদ্ধতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”  

ইতোমধ্যেই নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ার মতো দেশগুলোতে লবস্টারকে জীবন্ত সেদ্ধ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক এলিফথেরিওস কাসিওরাস জানান, লবস্টার যেহেতু ‘সংবেদনশীল প্রাণী’ হিসেবে প্রমাণিত, তাই যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও এই অমানবিক রন্ধনশৈলী নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।