রেস্তোরাঁয় কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি জীবাণুবাহী? জানলে অবাক হবেন

বন্ধুর জন্মদিন, ছুটির দিনে আড্ডা কিংবা অফিসের ক্লান্তিকর দিন শেষে একটু ভালো সময় কাটাতে আমরা অনেকেই ঢুঁ মারি পছন্দের রেস্তোরাঁয়। টেবিল জুড়ে ধোঁয়া ওঠা বিরিয়ানি, ক্রিসপি ফ্রাইড চিকেন কিংবা পছন্দের পাস্তা আসার পর মনটা যেন খুশিতে ভরে যায়। কিন্তু খাবারের স্বাদ, মান আর রেস্তোরাঁর চোখধাঁধানো পরিবেশ নিয়ে আমরা যতটা খুঁতখুঁতে, টেবিলের ঠিক সামনে থাকা অদৃশ্য বিপদের কথা কিন্তু পাত্তাই দিই না। 

গবেষকরা বলছেন, রেস্তোরাঁয় গিয়ে যে জিনিসটি আমরা সবার আগে এবং নিশ্চিন্তে হাতে তুলে নিই, সেটিই আসলে জীবাণুর সবচেয়ে বড় উৎস। ঠিক ধরেছেন, বলা হচ্ছে রেস্তোরাঁর খাবারের মেনু বা মেনুবুকের কথা। 

কেন সবচেয়ে বিপদজনক মেনুবুক? 

কানাডীয় লেখক ও অণুজীববিজ্ঞানী জেসন টেট্রোর একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। তার মতে, রেস্তোরাঁর টেবিলে রাখা সব জিনিসের মধ্যে মেনুতেই সবচেয়ে বেশি জীবাণু জমা থাকে।

ভাবুন তো একবার, আপনার পছন্দের ওই রেস্তোরাঁর চমৎকার মেনু কার্ডটি দিনে কত শত মানুষ হাত দিয়ে ওলটপালট করছেন? কেউ হয়তো গণপরিবহনে জার্নি করে এসে হাত না ধুয়েই মেনু দেখছেন, কেউবা আবার হাঁচি-কাশি দিয়ে সেই হাতই দিচ্ছেন মেনুর পাতায়। অথচ, টেবিল  পরিষ্কারের সময় কর্মীরা চটজলদি টেবিলটা মুছে দিলেও, মেনু কার্ডগুলো যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করার সময় পান না বললেই চলে; বরং একই নোংরা কাপড় দিয়ে বারবার টেবিল আর মেনু মোছার কারণে জীবাণু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। প্লাস্টিক বা লেমিনেশনের আবরণে এই ব্যাকটেরিয়া আর ভাইরাসগুলো দিব্যি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

শুধু কি মেনু? টেবিলে সাজিয়ে রাখা কেচাপের বোতল, সসের জার কিংবা লবণ ও গোলমরিচের দানিগুলোও কিন্তু এই জীবাণু ছড়ানোর নীরব সঙ্গী।

সংক্রমণ যেভাবে আমাদের অজান্তেই ঘটে

খাবার আসার আগে টেবিলে বসে গল্প করতে করতে মেনুটা হাতে নিলেন। ওলটপালট করে দেখে অর্ডার দিলেন। এরপর গল্পে গল্পে বা অভ্যাসবশত হাত চলে গেল চোখে, নাকে কিংবা মুখে। ব্যস! মেনুতে ওঁৎ পেতে থাকা অদৃশ্য জীবাণুগুলো আপনার আঙুলের ডগা বেয়ে সোজা ঢুকে পড়লো শরীরে। বিশেষ করে শিশুরা যখন রেস্তোরাঁয় গিয়ে টেবিলের বোতল বা মেনু নিয়ে খেলা করে এবং পরে সেই হাত মুখে দেয়, তখন ঝুঁকিটা বেড়ে যায় বহুগুণ।

তবে কি রেস্তোরাঁয় খাওয়া বন্ধ করে দিবেন?   

একেবারেই না! অণুজীববিজ্ঞানীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সুস্থ মানুষের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেম এমনিতেই অনেক জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তবে সামান্য কিছু অভ্যাস বদলে নিলে এই অদৃশ্য বিপদ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা সম্ভব। যেমন -

অর্ডারের পর হাত ধোয়া: মেনু দেখে অর্ডার দেওয়া শেষ? এবার অলসতা না করে সোজা ওয়াশরুমে গিয়ে সাবান-পানি দিয়ে হাত দুটো ভালো করে ধুয়ে নিন। খাবার টেবিল ছাড়ার সুযোগ না থাকলে সাথে থাকা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

ডিজিটাল মেনুর চল: আজকাল অনেক রেস্তোরাঁতেই টেবিলে কিউআর (QR) কোড থাকে। স্মার্টফোন দিয়ে তা স্ক্যান করে ডিজিটাল মেনু দেখার অভ্যাস করুন। এতে স্পর্শ ছাড়াই অর্ডার করা যাবে।

সঙ্গে রাখুন হ্যান্ড স্যানিটাইজার: সব সময় হাত ধোয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

সচেতনতা: খাবার খাওয়ার আগে ভুলেও মুখে বা চোখে হাত দেবেন না। শিশুদের হাত যেন পরিষ্কার থাকে, সেদিকে বাড়তি নজর রাখুন।

বাইরে খাওয়া-দাওয়া কেবল পেট ভরানো নয়, এটি আমাদের সামাজিক জীবনের ও মন ভালো রাখার একটা বড় অংশ। তাই ভীতি নয়, কেবল খাওয়ার আগে সামান্য সচেতনতাই পারে আমাদের এই আনন্দকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখতে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে ঝুঁকি আরও কমানো সম্ভব।