একদিকে বিশ্বের অনেক দেশ নতুন কারাগার নির্মাণে ব্যস্ত। অন্যদিকে এমনও দেশ আছে, যেখানে বন্দীর সংখ্যা এতোটাই কমে গেছে, যে একের পর এক কারাগার বন্ধ করে দিতে হয়েছে। ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসের এই গল্প শুনে অনেকেরই মনে হতে পারে, তাহলে কি দেশটিতে অপরাধীই নেই?
গত দুই দশকে নেদারল্যান্ডসে কারাবন্দীর সংখ্যা ৪০% এর বেশি কমেছে। এর ফলে দেশটির বেশ কয়েকটি কারাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালে দেশটির একটি কারাগারকে রূপান্তর করা হয় সিনেমা হলে, এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বিবিসি। এমনকি কারাগারকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, অফিস কিংবা আবাসন প্রকল্প হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। একসময় যে ভবনগুলো অপরাধীদের আবাস ছিল, সেগুলোই এখন সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জায়গা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। সহিংস অপরাধের হার কমে যাওয়া, উন্নত সামাজিক নিরাপত্তা, কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং পুনর্বাসনভিত্তিক বিচারনীতি, সবমিলে কারাগারে বন্দীর সংখ্যা কমেছে।
নেদারল্যান্ডসে ছোট ও মাঝারি ধরনের অনেক অপরাধে কারাদণ্ডই প্রথম পছন্দ নয়। অনেক ক্ষেত্রে আদালত সামাজিক সেবা, পুনর্বাসন কর্মসূচি কিংবা ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কল ট্যাগের মাধ্যমে নজরদারির মতো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এতে অপরাধীরা সমাজে থেকেই নিজেদের সংশোধনের সুযোগ পান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
ডাচ বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাগার সব সময় অপরাধ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় নয়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কারাভোগের কারণে একজন ব্যক্তি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এমনকি কারাগারের ভেতর নতুন অপরাধী চক্রের সঙ্গেও জড়িয়ে যেতে পারেন। তাই কম ঝুঁকির অপরাধীদের ক্ষেত্রে পুনর্বাসন ও সংশোধনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে নেদারল্যান্ডসকে অপরাধহীন দেশ বলা যাবে না। দেশটিতে এখনও অপরাধ ঘটে এবং কারাগারও রয়েছে। তবে প্রচলিত সহিংস অপরাধের হার কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সময়ে সাইবার অপরাধ ও সংগঠিত অপরাধের মতো নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন কারাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর চিন্তায় ব্যস্ত, তখন নেদারল্যান্ডস দেখিয়েছে ভিন্ন এক পথ।