রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর, শপিং মলসহ বিভিন্ন স্থানে বিনা মূল্যের পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি। অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা ব্যক্তিগত তথ্য, বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, এমনকি ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্যও হাতিয়ে নিতে পারে। তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
নেটওয়ার্কের সঠিক নাম নিশ্চিত করুন
পাবলিক বা ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর কাছ থেকে নেটওয়ার্কের সঠিক নাম জেনে নিন। অনেক সময় আসল নেটওয়ার্কের নামে মিল রেখে ভুয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করে ব্যবহারকারীর তথ্য চুরির চেষ্টা করা হয়।
ফাইল শেয়ারিং সুবিধা বন্ধ রাখুন
পাবলিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার আগে ফোন বা ল্যাপটপের এয়ারড্রপ, নেটওয়ার্ক ডিসকভারি ও অন্যান্য ফাইল শেয়ারিং অপশন বন্ধ করে দিন। এতে অন্য কেউ আপনার ডিভাইসে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করতে পারবে না।
নিরাপদ ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন
কোনো ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেওয়ার আগে নিশ্চিত করুন, ঠিকানার শুরুতে https:// রয়েছে এবং ব্রাউজারে প্যাডলক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। নিরাপদ নয় - এমন ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
অ্যান্টিভাইরাস ও সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখুন
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ফোন বা ল্যাপটপের অ্যান্টিভাইরাস চালু রাখুন এবং অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করুন। এতে পরিচিত নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি কমে।
অনলাইন ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেন এড়িয়ে চলুন
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ডের তথ্য দেওয়া বা অন্য কোনো সংবেদনশীল অ্যাকাউন্টে লগইন না করাই নিরাপদ। এসব কাজের জন্য মোবাইল ডেটা বা বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করাই ভালো।
অতিরিক্ত সতর্কতা
সম্ভব হলে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করুন। পাশাপাশি কাজ শেষে ওয়াই-ফাই থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডিভাইসের অটো জয়েন (Auto Join) বা অটো কানেক্ট (Auto Connect) সুবিধা বন্ধ রাখুন। এতে অজান্তেই অনিরাপদ নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।