প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে হঠাৎ দেখা...

কবীর সুমনের লেখা এক গানের লাইন হচ্ছে- ‘সে চলে গেছে তবুও যায়নি, যেমন যায় না আসলে কেউ...’। যারা প্রিয়জনকে কাছে রাখতে পারেননি, তারা ভীষণভাবে অনুভব করেন এ গানের মর্মার্থ।

জীবনের একটা সময়ে সবাই কোন না কোনভাবে প্রেমে পড়েছেন। কারো প্রতি ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে। একটা সময় সেই মানুষটি জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠে। 

যার অনুপস্থিতিতে নিঃশ্বাসও ভারী লাগত সে মানুষটি জীবনযাত্রায় হয়ত কাছে নেই, বা ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে সর্ম্পক নেই। এই মানুষটি হচ্ছেন প্রাক্তন! 

বিয়ের পরে বা বিভিন্ন কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাক্তনের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ থাকে না। 

কিন্তু হঠাৎ একদিন জীবনে চলার পথে দেখা মিলে সেই প্রাক্তনের সাথে। হয়তো একটা রাস্তার মোড়ে, পরিচিত কোনো ক্যাফেতে, কিংবা ট্রেনের জানালার ওপারে। 

ছোট জীবনে চলার পথে কিংবা অন্যান্য যেকোনো ভাবেই পুরোনো সম্পর্কের মানুষটির সঙ্গে পুনরায় দেখা হয়ে যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে কিছু জিনিস মেনে চলা উচিত। 

প্রাক্তনের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে গেলে যা করণীয়-

সৌজন্য বজায় রাখুন
চোখে চোখ পড়লে একটা হালকা হাসি বা মাথা নেড়ে সৌজন্য প্রকাশ করতে পারেন। আর কথা বললেও সংক্ষেপে এবং ভদ্র ভাষায় বলতে হবে। একদম রাগান্বিত বা অতি আবেগপ্রবণ আচরণ দেখানো ঠিক না। 

পুরনো কষ্ট না বলায় ভালো 
হঠাৎ দেখা হলে পুরনো সম্পর্কের ভুল, দুঃখ বা তিক্ততা নিয়ে নতুন করে কোনো কথা বলার প্রয়োজন নেই। যে কথাগুলো সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে, তা বললেও আর কোনো লাভ হবে না। তাই পুরোনো স্মৃতি টেনে নিজে কষ্ট পাওয়া বা তাকে কষ্ট দেওয়া মোটেও উচিৎ নয়। 

অহংকার নয়, আত্মমর্যাদার প্রকাশ ঘটান
প্রাক্তনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় পর দেখা হলে প্রথমেই একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে নিজের আত্মমর্যাদা ধরে রাখা। নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করবেন না। কোনো বিষয় নিয়ে অহংকার নয় নিজের আত্মমর্যাদা ধরে রাখতে হবে। তাই স্বাভাবিক কথাবার্তা বলে দ্রুত এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন।

বর্তমানের প্রতি দায়িত্বশীল থাকুন
আপনার যদি নতুন কোনো সম্পর্ক বা পরিবার থাকে, তবে প্রাক্তনের সঙ্গে কথা বলার সময় সেই বাস্তবতাকে সম্মান করুন। নিজের নতুন সর্ম্পক বা পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে তার বিষয়টা দেখতে হবে। 

দীর্ঘ আলাপ এড়িয়ে চলুন
প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না থাকলে বা দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকলে হঠাৎ দেখায় অতিরিক্ত কথাবার্তা না বলাই উত্তম। কারণ দীর্ঘ সময় আড্ডা দিলে নিজের মতো অজান্তেই অনেক কথা চলে আসবে। দেখা যাবে এক পর্যায়ে দুজনেই বাজে আচরণ করতে শুরু করছেন। তাই নিজের সীমা বজায় রেখে কথা বলা ভালো।