ডেরেক ও বেভারলি জুবার্টের পশুপ্রেম থেকে ‘সিংহ দিবস’ 

প্রেম বলতে প্রথমেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে এক বিশেষ মানুষের মুখ, বুকভরা টান, অদ্ভুত এক ভালোলাগা এবং মন খারাপের দিনে প্রিয় মানুষটির সঙ্গ পাওয়া। কিন্তু মানুষ ছাড়াও পশুপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের যে প্রেম থাকতে পারে তার প্রমাণ বেভারলি জুবার্ট ও ডেরেক জুবার্ট। 

প্রেম-ভালোবাসা শুধু মানুষের সঙ্গে মানুষের হয়, এই ধারণা বদলে দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার দম্পতি বেভারলি ও ডেরেক। তারা সিনেমা, ছবি, লেখনির মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের প্রেম, মানুষের সঙ্গে পশুপ্রাণীর যে ভালোবাসা ও সম্পর্ক। 

এই ফটোগ্রাফার দম্পতি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিংহ, বড় বিড়াল এবং হাতির মতো বিখ্যাত প্রজাতি রক্ষা, সংরক্ষণ, তাদের গুরুত্ব নিয়ে কাজ করছেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মাধ্যমে তারা চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টারিতে এসব প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। 

এরই ধারবাহিকতায় বনের সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে সিংহের ভূমিকাকে তুলে ধরতে প্রতি বছর ১০ আগস্ট বিশ্ব সিংহ দিবস পালন করার আহ্বান জানায় তারা। 

‘বিগ ক্যাটস ইনিশিয়েটিভ’ নামক সংরক্ষণ সংস্থা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করে। 

ডেরেক ও বেভারলি জুবার্টের প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল হাইস্কুলে পড়াশোনা করার সময়। বন্য স্থান ও বন্যপ্রাণীর প্রতি তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ছিল ছোট থেকেই। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তারা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। 

লরি রবিনসনের বন্যপ্রাণী বিষয়ক বইয়ের এক সাক্ষাতকার থেকে জানা যায়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এই দম্পতি নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, তারা মনে করেন পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণী তাদের সন্তান, তাই তারা সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

বেভারলি জুবেয়ার ও ডেরেক জুবার্ট বিশ্বজুড়ে সিংহের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কমে যাওয়ার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং প্রাণীটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালানোর জন্য এই দিনটি প্রতিষ্ঠা করেন। 

বাংলাদেশে সিংহ দিবস

বাংলাদেশের কোনো প্রাকৃতিক বনে বা বনাঞ্চলে সিংহের বসবাস নেই। সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘ থাকলেও সিংহ এখানে প্রাকৃতিকভাবে কখনও ছিল না বা পাওয়া যায় না। 

তবুও, দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও বনকর্মীরা দিবসটি পালন করে থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য শুধু সিংহ সংরক্ষণ নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বন্যপ্রাণী রক্ষার বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।