জেনে নিন অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেওয়ার পদ্ধতি

একজন নাগরিকের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিরিখে নির্ধারিত হয় তিনি প্রতিবছর কত টাকা কর দেবেন। বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত ফর্মে নাগরিক কর্তৃক প্রদানকৃত নির্দিষ্ট অর্থ-বছরে (১ জুলাই থেকে পরের বছর ৩০ জুন) তার আয়ের সকল তথ্যাবলী যাচাই করে আয়কর কর্তৃপক্ষ এই আয়করের পরিমাণটি ঠিক করেন। ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) ধারীর জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করেছে। এই হিসাবপত্রটি জমা না দিলে বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জরিমানাসহ নানান ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নথিপত্র জমা করা উচিত।

প্রতিবছর কর দিবস ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই করদাতাকে তার আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হয়। জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে এই কর দিবসের মধ্যে যেকোনো সময় রিটার্ন দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া, এ বছরের জন্য প্রথমবারের মতো যারা রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তারা ৩০ নভেম্বরের পরিবর্তে আগামী বছরের ৩০ জনু পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন।

সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশি বিনির্মাণের অংশ হিসেবে এখন অনলাইনেই সেরে নেওয়া যায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তারই অংশ হিসেবে অনলাইনে দেওয়া যাচ্ছে আয়কর রিটার্ন। চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি

এ পদ্ধতিতে হিসাব জমা করার জন্য প্রথমে করদাতাকে এনবিআর-এর ওয়েবসাইটের ই-ট্যাক্স রিটার্ন পেজে প্রবেশ করতে হবে। এই পৃষ্ঠার মাধ্যমে করদাতা ইরিটার্ন সাইটে নিবন্ধন করতে পারবেন। এর জন্য সোজা চলে যেতে হবে “ই-রিটার্ন” অপশনে। পরের পৃষ্ঠায় নিচে লেখা “রেজিষ্ট্রেশন” বাটনটিতে ক্লিক করতে হবে।

এবার এখানে ইংরেজিতে করদাতার ১২ অঙ্কের টিন সংখ্যা ও মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। অতঃপর ক্যাপচা বসানো, মোবাইল নাম্বার যাচাইয়ের জন্য ওটিপি দেওয়া এবং পাসওয়ার্ড ঠিক করার মাধ্যমে নিবন্ধনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে যাবে।

এবার আবার ই-ট্যাক্স রিটার্ন সাইটে যেয়ে ১২ অঙ্কের টিন সংখ্যা ও পাসওয়ার্ড দিয়ে “সাইন ইন” করতে হবে। এরপরেই করদাতা ইরিটার্ন সাইটে তার নিজস্ব ইউজার ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে পারবেন। এখন বাম পাশের তালিকা থেকে ক্লিক করতে হবে “রিটার্ন সাবমিশন”-এ।

আর এর ফলেই তিনি পৌছে যাবেন অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার মূল অংশে। এখানে আয়ের উৎস ও হিসাব সহ প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সঠিক ভাবে সরবরাহ করতে হবে। প্রতি পৃষ্ঠাতেই তথ্য দেওয়ার পর নিচের “সেভ এ্যান্ড কন্টিনিউ” বাটনে ক্লিক করে পরের পৃষ্ঠায় যেতে হবে।

সবগুলো পৃষ্ঠায় তথ্য দেওয়া শেষ হলে চূড়ান্ত ভাবে আয়কর রিটার্নের সারসংক্ষেপ দেখানো হবে। এখানে তথ্য সব ভালো ভাবে যাচাই করার পর “ভিউ রিটার্ন” বাটনে ক্লিক করলে তা করদাতাকে তার রিটার্ন ফর্মটি সম্পূর্ণরূপে পূরণ করা অবস্থায় দেখাবে। এখান থেকে সবকিছু আরও একবার নিরীক্ষা করে নিয়ে নিচের দিকে “ভেরিফিকেশন”-এ টিক মার্ক দিয়ে দিতে হবে। সবশেষে “সাবমিট রিটার্ন” বাটনে ক্লিক করলেই সফলভাবে দাখিল হয়ে যাবে আয়কর রিটার্ন।

জমাকৃত আয়কর রিটার্নের একটি কপি ডাউনলোডের পর প্রিন্ট করে পরবর্তী প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।