পরিত্যক্ত কাপড় দিয়ে হালফ্যাশনের পোশাক বানিয়ে দুনিয়া মাতাচ্ছেন তিনি

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমগ্র পৃথিবী যখন হিমশিম খাচ্ছে তখন ফ্রান্সের এক ডিজাইনার ফেলে দেওয়া পোশাক দিয়ে গড়ে তুলেছেন হালফ্যাশন প্রতিষ্ঠান।  তার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আঙিনায় বেশ খ্যাতি পেয়েছে। চটকদার ও ট্রেন্ডি পোশাকগুলো ভালো করে দেখলে বোঝা যায়- এগুলো ব্যবহার করা তোয়ালে ও পুরোনো রেশমের স্কার্ফ দিয়ে তৈরি।

মারিন স্যার নামে এই ডিজাইনার জানান, আমাদের কত পুরোনো জামাকাপড় আছে। একটি বড় গুদামে গিয়ে আমার এগুলো দেখে কান্না পাচ্ছিল। তখন আমার মনে হলো, আজকের ডিজাইনারদের কাঁধে গোটা বিশ্বের দায়িত্ব রয়েছে। 

সেই চিন্তা থেকে তিনি এই হালফ্যাশনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেন।

প্যারিসের উত্তরে কোম্পানিটির সদর দপ্তরে সপ্তাহে দুই দিন পুরোনো কাপড় বোঝাই ট্রাক আসে। প্রত্যেকটি কাপড় পরীক্ষা করে রং অনুযায়ী আলাদা করে পরিষ্কার করা হয়। তারপর সেগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করেন ডিজাইনাররা।

কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে মারিন স্যার বলেন, ‘‘আমার টিম পুরোনো কাপড় ঘেঁটে কিছু উপাদান বেছে আমার কাছে নিয়ে আসে। যা দিয়ে আমি পোশাক তৈরি করি। ডিজাইন করার সময়েও সেই উপাদান সম্পর্কে আমার শ্রদ্ধাবোধের চেষ্টা থাকে। যত কম সম্ভব কেটে এবং যত কম সম্ভব রদবদল করে পোশাক তৈরি হয়। সেই উপাদান সত্যি আকারের সঙ্গে মানানসই, পোশাকের ঢলের সঙ্গেও দিব্যি খাপ খেয়ে যায়।”

মারিন স্যার তার রিসাইকেল করা পোশাকের ওপর অর্ধচন্দ্রের আকৃতির ছোট এক ছাপ রাখেন, যা অনেকটা তার লোগোর মতো। 

মারিন মনে করেন, “চাঁদের প্যাটার্নসহ ড্রেস মানুষের কাছে অর্থবহ মনে হয়। সেটা অনেকটা দ্বিতীয় ত্বকের মতো। মানুষ হয়তো সংগ্রামের গন্ধ পায়। তবে ‘মিলিট্যান্ট' হলেও সেগুলো মোটেই আগ্রাসী নয়। সেইসঙ্গে সত্যি মেয়েলি একটা ব্যাপারও রয়েছে। ফলে অনেক শক্তিশালী নারী এই বিন্যাসের পোশাক পরছেন।”

মার্কিন গায়িকা বিয়ন্সে, টেলিভিশন তারকা কাইলি জেনার বা ব্রিটিশ গায়িকা অ্যাডেল তার তৈরি পোশাক পরার ফলে মারিনের খ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়েছে। তারকা গায়ক ম্যাডোনার মেয়ে লুর্দ ব়্যাম্পের ওপর মারিনের তৈরি পোশাক পরেছেন। মারিনের ভাষ্য, “সেলিব্রিটি তারকারা তার তৈরি পোশাক পরলে অবশ্যই সুবিধা হয়।” 

“ফ্যাশন শো” এর দর্শকরাও এই ডিজাইনারের সর্বশেষ সৃষ্টি গায়ে চাপিয়েছেন। পুরোনো কাপড় দিয়ে তৈরি হওয়ায় অনেকের কাছে সেগুলোর বিশেষ মূল্য রয়েছে।

ইনফ্লুয়েন্সার ইসাবেল শাপু মনে করেন, “মারিন সমাজের পরিত্যক্ত এই সব বর্জ্য নিয়ে নতুন পোশাকে রূপান্তরিত করেন। সেগুলো অসাধারণ এবং একেবারে আধুনিক।”

টেকসই পণ্যের এমন ধারণার কারণে ৩০ বছর বয়সী মারিন স্যার আজ আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আঙিনায় অন্যতম জনপ্রিয় ডিজাইনার হয়ে উঠেছেন।