বন্ধুত্ব। শর্তহীন বোঝাপড়া, সঙ্গ দেওয়ার এক সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্ক যদি হয় আজীবনের! দাম্পত্যের। তাতে জীবন হতে পারে সুখের। ব্যতিক্রমও কম নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বোঝাপড়া, সমস্যা-অসুবিধা ও জানাশোনা থাকায় দুজনের মধ্যের রসায়ন জমে ওঠে। কিন্তু এর সুবিধা যেমন আছে, তেমন রয়েছে চ্যালেঞ্জও।
পছন্দ-অপছন্দের খেয়াল রাখা: বন্ধু হলে পরস্পরের পছন্দের মেলবন্ধন থাকে। খাওয়া, ঘোরাঘুরি এসব নিয়ে সমস্যা হয় না। একে অপরের পছন্দের রান্না করে খাওয়ানোর সুযোগ থাকে। দুজনে মিলে একসঙ্গে বসে পছন্দের সিনেমা দেখার মজাটাই আলাদা। দুজনের পছন্দ একসঙ্গে মিলে গেলে তার অনেক সুবিধাও থাকে।
যৌনতা: দাম্পত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ যৌনতা। যৌন জীবন সুখের হলে ভালবাসায় গভীরতা বাড়ে। অটুট হয় বিবাহের সম্পর্ক। কিন্তু যিনি খুব ভালো বন্ধু, তিনি যে ভালো যৌনসঙ্গীও, তেমনটা নাই হতে পার। তবে বন্ধুত্বের ভালবাসার টান থাকলে সেই নিয়ে কোনো চিন্তা থাকে না।
রহস্যহীন সম্পর্ক: একটি রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যে রহস্য ও নতুনত্বের ব্যাপার থাকে। তবে বন্ধুত্বের মধ্যে চেনা জানা থাকায় দুজনেরই উচিৎ দুজনের কাছে সব বিষয় পরিষ্কার থাকা। যাতে এমন কিছু সামনে না আসে, যা অপরজনকে অবাক করে।
যার যার স্বাধীনতা বজায় রাখা: সেরা বন্ধুকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া চমৎকার হলেও দুজনের নিজস্ব জায়গা থাকতে হবে। উভয়েরই শখ, সামাজিক জীবন এবং ব্যক্তিগত সময় থাকতে হবে। যাতে সম্পর্ক একঘেঁয়ে না হয়ে ওঠে।
উচ্চ প্রত্যাশা: বন্ধুকে বিয়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ প্রত্যাশা। দুজনই একে অপরকে খুব ভালভাবে জানেন। ফলে প্রতিটি প্রয়োজন এবং ইচ্ছা বোঝার জন্য আপনি আপনার সঙ্গীর কাছ থেকে অনেক প্রত্যাশা রাখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এমনকি সেরা বন্ধুরাও একে অপরের মন পড়তে পারে না। মূল বিষয় হলো খোলামেলা ও সৎ যোগাযোগ।
বন্ধুত্ব ও রোম্যান্সের ভারসাম্য রাখা: বন্ধুত্বে রোম্যান্সের বিষয়গুলো থাকে না। কিন্তু দাম্পত্যে সেটি থাকতে হয়। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনোভাবেই রোম্যান্সহীনতা আনা যাবে না।
দ্বন্দ্ব রাখবেন না: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হতে পারে। বন্ধুত্বের মধ্যে প্রত্যাশার চাপ থাকায় সেটি ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু বন্ধুত্বের জন্য হলেও সেটি মিটিয়ে ফেলতে হবে।