দূষণে হারাচ্ছে ঘ্রাণ, ফুল খুঁজে পাচ্ছে না প্রজাপতি

দূষণের কারণে ঘ্রাণ বদলে যাওয়ায় প্রজাপতি ও পোকামাকড় ফুল খুঁজে পাচ্ছে না। সম্প্রতি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির বায়ুবাহিত রাসায়নিক পরাগায়ন প্রক্রিয়া ব্যহত করছে। এ কারণে ফুলের ঘ্রাণ বদলে যাচ্ছে। আর ঘ্রাণ বদলে যাওয়া ফুল খুঁজে পাচ্ছে না প্রজাপতি ও পোকামাকড়।

গবেষক জেফ রিফেল বলেন, “পরিবেশের দূষণ গন্ধের সংকেতের রাসায়নিক গঠনকে পরিবর্তন করছে। ফলে পরাগায়নকারীরা এটিকে আর চিনতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে না।”

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এনও-থ্রি নামে পরিচিত নাইট্রেট রাসায়নিক ফুলের ঘ্রাণ পরিবর্তনের জন্য দায়ী।

রিফেল বলেন, “এখন গোলাপে বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিকের বৈচিত্র্যময় ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। সব ফুলের মধ্যেই একই অবস্থা।”

গবেষকরা জানান, পতঙ্গগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে ফুলের ঘ্রাণ চিহ্নিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক পতঙ্গই শহুরে পরিবেশে ফুলের মধ্যে ঘ্রাণ খুঁজে পায়নি। এটির কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, ওই ফুলে রাসায়নিকের অস্তিত্ব রয়েছে।

রিফেল বলেন, “এনও-থ্রি- এর কারণে ফুলের ঘ্রাণ কমছে। ফুলের ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে না। ফলে এটি পরাগায়নকারীকে আকর্ষণ করছে না।”

রিফেল আরও বলেন, “২৪০০,০০০টিরও বেশি ফুল গাছের প্রায় ৭৫% পোকামাকড়ের প্রয়োজন। তবে প্রায় ৭০ প্রজাতির পরাগায়ন বিপন্ন বা হুমকির সম্মুখীন।”

এই গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভিদ-পরাগায়নকারীর মিথস্ক্রিয়াকে প্রভাবিত করার বিষয় নজরে এনে এটি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান গবেষকরা।