ছোট্ট শব্দ “মা”, কিন্তু কী প্রগাঢ় এক অনুভূতির জন্ম দেয়, কখনও স্বস্তি কিংবা উচ্ছ্বাস সবই যেন ছোট এই শব্দটির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার। পৃথিবীর সমস্ত কাঠিন্যকে একপাশে সরিয়ে মা হয়ে ওঠেন অদ্বিতীয়। মা মানে পৃথিবী, মা মানে সমুদ্র, মা মানে সহজ, মা মানে সুন্দর। কথায় আছে, “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত” কিংবা “যার মা আছে সে কখনই গরিব নয়”। তাই উত্তাল দিনে, কঠিন সময়ে, দুর্যোগে, দুর্ভাবনায়, দুঃসময়ে মায়ের কোল, মায়ের স্পর্শ অমূল্য। সেই মাকে ভালবাসা প্রকাশের দিন আজ। বিশ্ব মা দিবস। আধুনিক বিশ্বে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারটিকে “মা দিবস” হিসেবে পালন করা হচ্ছে, সেই ১৯০৮ সালের মে থেকে।
গত শতাব্দীর শুরু দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এক স্কুলশিক্ষিকা অ্যানা জারভিস সেখানকার পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা দেখে মর্মাহত হয়ে মায়ের জন্য বিশেষ দিন পালনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করার কথা ভাবলেন। তার সে ভাবনা বাস্তবায়নের আগে ১৯০৫ সালের ৯ মে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা এম জারভিস মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করেন। বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে ১৯০৮ সালে তার মা ফিলাডেলফিয়ার যে গির্জায় উপাসনা করতেন, সেখানে সব মাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মা দিবসের সূচনা করেন। ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মায়েদের জন্য উৎসর্গ করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়। এখন বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দিবসটি পালন করা হয়। তবে অনেকের মতে এই দিনটির সূত্রপাত প্রাচীন গ্রিসের মাতৃ আরাধনার প্রথা থেকে।
নেপোলিয়ন বলেছিলেন, “তুমি আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব।” মা যেন একটি প্রতিষ্ঠান, সন্তানের আধো বুলি থেকেই এ মানুষটা নিরলস শ্রম দেন, যাতে ভাল মানুষ হয়ে উঠতে পারে তার সন্তান।
মাকে নিয়ে রয়েছে অজস্র কবিতা, গান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “মনে পড়া”, আল মাহমুদের “নোলক”, হুমায়ুন আজাদের “আমাদের মা” এর মত কতই না দারুণ সৃষ্টি রয়েছে এই মাকে নিয়ে।
পারিপার্শ্বিক চাপে বর্তমান বিশ্বে সন্তানকে লালনের জন্য অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠতে হয় মাকে, তবে মায়ের মন, সন্তানের সর্বময় মঙ্গল কামনা করে সবসময়ই, তাই সৃষ্টির শুরু থেকে আজো মায়ের ভূমিকা অপরিসীম।