সোজা, কোঁকড়ানো কিংবা ঢেউখেলানো— চুল যেমনই হোক না কেন; আঁচড়াতে গেলে চিরুনি প্রয়োজন। শুধু আঁচড়াতে নয়, আজকাল জট ছাড়াতে কিংবা চুলে নানা ধরনের কায়দা করতেও বিভিন্ন ধরনের ব্রাশ বা চিরুনি ব্যবহার করা হয়। চুলের যত্নেও চিরুনির ভূমিকা একেবারে কম নয়। আর এক্ষেত্রে চিরুনির পরিচ্ছন্নতাও তাই গুরুত্বপূর্ণ।
চুল আঁচড়ানোর সময় তেল, মাথার ঘাম কিংবা খুশকি চিরুনির গায়ে থেকে যায়। সেই চিরুনি দিয়ে আবার মাথা আঁচড়ালে মাথার ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর চিরুনি পরিষ্কার করে নিলে এই সমস্যা অনেকটা এড়ানো যায়।
চিরুনি পরিষ্কারের জন্য অনেকেই গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা তরল সাবান দিয়ে সেটি ভিজিয়ে রাখেন। তারপর অন্য একটি ব্রাশ দিয়ে ঘষে চিরুনি পরিষ্কার করে নেন।
তবে কেশসজ্জা শিল্পীরা বলছেন, চুলের যত্নে সপ্তাহে এক-দু’বার চিরুনি ধুয়ে নিলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। সেজন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর চিরুনি বদলে ফেলা প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কতদিন পরপর চিরুনি বদলে ফেলা উচিত?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিরুনির “ব্রিসল্স” বা দাঁতে ফাটল ধরলে, সেটি অবশ্যই বদলে ফেলা উচিত।
কেশসজ্জা শিল্পী এবং গবেষক জন স্টিভেন্স বলেন, “চিরুনির মান যদি ভাল না হয়, তা হলে মাথার ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলিকলে আঘাত লাগলে চুল ঝরে পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। আবার, ব্যবহার করতে করতে অনেক সময়ে চিরুনির সাজানো ব্রিসল্স মাঝখান থেকে একটি করে খুলে পড়ে যেতে পারে। এই লক্ষণ দেখলেও বোঝা যায়, চিরুনি বদলানোর সময় আসন্ন।”
কেশসজ্জার সময়ে নানা ধরনের রাসানিক স্প্রে ব্যবহার করা হয়। চুলের ক্ষতি আটকাতে সরাসরি চুলে স্প্রে না দিয়ে অনেকে চিরুনি বা ব্রাশের গায়ে তা মাখিয়ে নেন। তাতে চিরুনির মান আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে একটি চিরুনি মাস ছয়েকের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি সেটি না-ও করেন, তবে চুল আঁচড়ানোর ব্রাশ বা চিরুনিগুলো বছরে অন্তত একবার অবশ্যই বদলে ফেলা উচিত।