টাকা বা কোনে জিনিস ধার নেওয়ার পর ফেরত দেওয়ার সময় অনেকেই গড়িমসি করেন। অনেকেই নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও পাওনা জিনিস পরিশোধ করতে চান না। ধার নেওয়ার থেকেও বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় ধার দিলে। নিজে সময় মতো ধার নেওয়া জিনিস ফেরত দিলেও যিনি আপনার কাছে থেকে ধার নিয়েছেন সে তো আপনার ধারে কাছে নাও ঘেষতে পারে। অনেক সময় পরিবারের কেউ বা সহকর্মী বা আত্মীয় স্বজনের কেউ টাকা বা জিনিস ধার নিলে যদি তা ফেরত দিতে গড়িমসি করে তাহলে আমরা সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে প্রয়োজন থাকা স্বত্ত্বেও তা চাইতে পারি না।
তাই চলুন এ সমস্যা থেকে বাঁচতে কিছু পদক্ষেপ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
স্পষ্টভাবে কথা বলা
ধার পরিশোধের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও যদি গ্রহীতা তা ফেরত না দেয় তাহলে গ্রহীতাকে দৃঢ় এবং স্পষ্ট করে টাকা বা জিনিসের কথা জানাতে হবে। টাকা বা জিনিস ধার নিয়ে অনেক সময় লোকে ভুলে যান। সামনাসামনি বা মোবাইল ফোনে তাকে টাকার কথা মনে করিয়ে দিন। অযথা ঝগড়াঝাটি এড়ানোর জন্য এটাই সবচেয়ে ভালো দিক।
সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া
মনে করিয়ে দেওয়ার পরও যদি ধার নেওয়া ব্যক্তি টাকা বা জিনিস ফেরত না দেন তখন তাকে একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। তাকে বুঝিয়ে বলুন যে, এই তারিখের মধ্যে আপনার টাকা বা জিনিস ফেরত পাওয়া একান্ত প্রয়োজন। তাতে সে একটু হলেও চাপে থাকবে এবং ধার শোধ করার চেষ্টা করবে।
ধার শোধের উপায় বলে দেওয়া
হতে পারে ধার নেওয়া ব্যক্তি আপনার থেকে অনেকটা টাকা ধার নিয়েছেন। তার পক্ষে একবারে এতো টাকা পরিশোধ কর সম্ভব হচ্ছে না। তাহলে তাকে সহজে ধার শোধের বুদ্ধি দিন। একবারে পুরো টাকা না দিয়ে একটু একটু করে টাকা ফেরত চান। অনেকটা মাসিক ইনস্টলমেন্টের মতো। এতে সুশৃঙ্খল উপায়ে টাকা ফেরত পাওয়া যেতে পারে।
লিখিত প্রমাণ
বড় অঙ্কের অর্থ বা মূল্যবান কোনো জিনিস ধার দিলে অবশ্যই তা লিখিতভাবে দেওয়া উচিত। কাগজে উল্লিখিত ঋণ, পরিশোধের শর্তাবলী এবং নির্দিষ্ট ফেরত দেওয়ার সময়সীমা উল্লেখ রাখা উচিত। সেই চুক্তিতে উভয়কেই সই করতে হবে। লিখিতচুক্তি ঋণগ্রহীতাকে দায়িত্বশীল করবে।