অনেকেই নিজের লুক পরিবর্তন করার জন্য চুল রাঙানোর কথা ভাবেন। চুলের রং পরিবর্তন করলে বেশ বদলে যায় চেহারা। তবে ঘন ঘন চুল রং করার ঝুঁকি রয়েছে। চুলের স্বাস্থ্য, মাথার ত্বকের অবস্থার পাশাপাশি আপনার সামগ্রিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এটি। রাসায়নিকযুক্ত রঙের অতিরিক্ত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে এটি।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘন ঘন চুলে রং করলে কী কী ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
চুলের ক্ষতি এবং ভাঙন
নিয়মিত চুল রং করার সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাবগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে চুলের ক্ষতি। চুলের রঙে অ্যামোনিয়া এবং হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মতো রাসায়নিক থাকে, যা চুল থেকে প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি চুলকে দুর্বল করতে তাকে। একপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত চুল ভেঙে যায় ও ঝরে পড়ে। ঘন ঘন ব্লিচিং এবং রং করার ফলে চুলের প্রোটিন গঠনও নষ্ট হয়, যার ফলে চুলের প্রান্ত বিভক্ত হয় এবং অতিরিক্ত চুল পড়ে যায়।
মাথার ত্বকের জ্বালা এবং অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া
রাসায়নিক চুলের রঙ মাথার ত্বকে জ্বালা, লালচেভাব, চুলকানি কিংবা তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। স্থায়ী রঙের একটি সাধারণ উপাদান প্যারাফেনাইলেনেডিয়ামিন (পিপিডি) এর মতো উপাদানগুলো কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের কারণ হতে পারে এই রাসায়নিক রং।
চুল পাতলা হওয়া এবং চুল পড়া বৃদ্ধি
চুলের রঙের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাতলা হয়ে যেতে পারে চুল। রং করার প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলো মাথার ত্বকের প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং তেল নষ্ট করে দেয়, যার ফলে চুলের গঠন দুর্বল হয়ে যায়।
চুলের গঠন পরিবর্তন
নিয়মিত চুল রং করার কারণে একসময় নরম এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য চুল রুক্ষ ও কোঁকড়ানো হয়ে যেতে পারে। চুলের গোড়া নিস্তেজ এবং চুল নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে বারবার রং করলে।
দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত চুলের রং ব্যবহার এবং গুরুতর স্বাস্থ্যগত অবস্থার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু চুলের রঙে কার্সিনোজেনিক যৌগ থাকে যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে মূত্রাশয় এবং স্তন ক্যানসার। এই রাসায়নিকগুলোর বারবার সংস্পর্শে হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া